Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্কুলকে না জানিয়েই স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন দুই শিক্ষিকা

তারা এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে কোনো তথ্য জানাননি। তাদের অনুপস্থিতিতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২২, ০৫:৩৩ পিএম

রাজবাড়ীর দেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রোজিনা খাতুন ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দুদিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে আর বিদ্যালয়ে আসেননি। জেলার বালিয়াকান্দির খালিয়া মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমাইয়া সুলতানা কোনো ছুটি না নিয়েই ২০২০ সালের ১৭ মার্চের পর স্কুলে আসেন না।

তারা দুজনই এখন স্থায়ীভাবে স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন বলে জানা গেছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাননি তারা। এই দুই শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। দ্রুত ওই দুটি পদে শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুমাইয়া সুলতানা খালিয়া মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি ২০২০ সালের ১৭ মার্চের পর থেকে ছুটি ছাড়াই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। 

আর রোজিনা খাতুন ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দু'দিন (৮ ও ৯ তারিখ) নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে আর বিদ্যালয়ে আসেননি।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, খালিয়া মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমাইয়া সুলতানা ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি চাকরিতে যোগদান করেন। একই ইউনিয়নের দেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রোজিনা খাতুন চাকরিতে যোগদান করেন ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট। অনুপস্থিত থাকায় তাদের বেতনভাতাও বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে খালিয়া মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, “ছুটি ছাড়াই সুমাইয়া সুলতানা ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত আছেন। পারিবারিক সূত্রে জানতে পেরেছি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, আর চাকরি করবেন না। তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তার পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি সময়ের অপেক্ষা মাত্র।”

দেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রশিদ বলেন, “২০২১ সালের ডিসেম্বরে দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে আর বিদ্যালয়ে আসেননি সহকারী শিক্ষক রোজিনা খাতুন। পরে তার স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পারি তিনি স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। দীর্ঘদিন তার স্কুলে না আসার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত বিষয়টি সমাধান হবে।”

ওই দুই শিক্ষকের পরিবারে সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, দুজনেরই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে হয়। এর মধ্যে সুমাইয়ার বিয়ে হয় ৩ বছর আগে ও রোজিনার বিয়ে হয় ২ বছর আগে। 

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল হক বলেন, “শিগগির পদ দুটি শূন্য ঘোষণা করে শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।”

About

Popular Links