Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বঙ্গমাতা সেতু উদ্বোধন রবিবার

সেতুটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষের স্বপ্ন পূরণ হবে

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৫৯ পিএম

‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৮ম বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সেতু’ রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উদ্বোধন হচ্ছে। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সেতুটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেতুটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষের স্বপ্ন পূরণ হবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান শনিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি উদ্বোধন করবেন।

সেতু উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ উপলক্ষে কচা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে দুটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এসএম রেজাউল করিম পশ্চিম পাড়ের সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন এবং পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পূর্ব পাড়ের সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বলে ডিসি জানান।

২০১৩ সালের ১৯ মার্চ জেলায় একটি জনসভায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোচা নদীর উপর সেতুটি নির্মিত হয়েছে।

২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৮৯৪ দশমিক ০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৪৯৩ মিটার দীর্ঘ ও ১৩ দশমিক ৪০ মিটার প্রশস্ত ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’ নির্মাণ করেছে।

চীন সরকার সেতুর প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৬৫৪.৮০ কোটি টাকা দিয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করেছে ২৩৯.৮০ কোটি টাকা।

সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার সময়সীমা চলতি বছরের ডিসেম্বরে থাকলেও পাঁচ মাস আগেই সেতুটি সেতু বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয় চলতি বছরের ৭ আগস্ট।

সেতুর পূর্ব প্রান্তে নদীর তীরে ২২০ মিটার দীর্ঘ এবং ৫৫ মিটার চওড়া একটি বিনোদন এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে।

এছাড়া এপ্রোচ রোড সংলগ্ন ৬০ মিটার লম্বা ও ৫ মিটার চওড়া বিটুমিনাস রাস্তা এবং অ্যাপ্রোচ রোডের নিচে একটি ৬০ মিটার দীর্ঘ ও ৫ মিটার চওড়া কংক্রিট রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে সেতুর পূর্ব প্রান্তে এবং ১২০ মিটার দীর্ঘ ও ৩.৫০ মিটার চওড়া। পশ্চিম প্রান্তে কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। যেখানে ২২০ মিটার নদী শাসন করা হয়েছে।

এই সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাসুদ মাহমুদ সুজন জানান, চাইনিজ মেজর ব্রিজ রিকনেসেন্স অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউট কোম্পানি লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে চায়না রেল ওয়াচ ১৭ ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড সেতুটি নির্মাণ করেছে।

পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি গোলাম মাওলা নাকেব সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সেতুটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত-সাগরকন্যা কুয়াকাটা- এবং বিশ্বের অন্যতম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের ফলে এই অঞ্চল দেশ-বিদেশের পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে এবং এর প্রাণকেন্দ্র হবে পিরোজপুর।

বিভাগীয় শহর বরিশাল এবং বিভাগীয় শহর ও শিল্পনগরী খুলনার মধ্যে সড়ক যোগাযোগে কোনো বাধা থাকবে না উল্লেখ করে নাকেব বলেন, সেতুটি গভীর সমুদ্র বন্দর পায়রা, দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা এবং খুলনার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করবে। বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রব্বানী ফিরোজ বলেন, বঙ্গমাতা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটাবে।

এটি পটুয়াখালীর শেখ হাসিনা ক্যান্টনমেন্ট এবং যশোর সেনানিবাসের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে।

নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার বলেন, আমাদের বিভাগীয় শহর বরিশালে ফেরির জন্য আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না।

About

Popular Links