Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাগেরহাটে খরা ও তাপদাহে পুড়ছে আমনের মাঠ

এ পরিস্থিতির মধ্যে ধান চাষ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা ও কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাতের কথা ভাবছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৩৯ এএম

প্রচণ্ড তাপদাহ ও খরায় শুকিয়ে গেছে বাগেরহাট জেলার আমন চাষের মাঠ। এতে জেলায় খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এ বছর বাগেরহাটে ৪৮৯ মিলিমিটার কম বৃষ্টি হয়েছে। ফলে আমন মৌসুম প্রায় শেষের দিকে এলেও খরা পরিস্থিতিতে জেলার প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষি জমি অনাবাদি পড়ে আছে।

এছাড়া পানির অভাবে কৃষকরা আমনের চারা রোপণ করতে পারছেন না। অপরদিকে যারা এরমধ্যে চারা রোপণ করেছেন তাদের ফসল হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যে ধান চাষ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা ও কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাতের কথা ভাবছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)।

ডিএই অনুযায়ী, বাগেরহাটে মোট ২ লাখ  ৪৪ হাজার ৩২৮টি কৃষক পরিবার রয়েছে। আমনের চারা রোপণের মৌসুম ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে। 

এ বছর সরকার ৭৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮০ মেট্রিক টন আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে।

এছাড়া বাগেরহাটে চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২৫৩৮ মি.মি. বৃষ্টি হয়েছে। গত বছর একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৩০২৭ মি.মি.। চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৮৯ মিলিমিটার কম বৃষ্টি হয়েছে, যা আমন ধানের উৎপাদনকে অনেকটাই প্রভাবিত করেছে।

বাগেরহাটের কচুয়া ও ফকিরহাট উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার সব ধান ক্ষেতে ফাটল ও আগাছা দেখা দিয়েছে। খাদ্য সংকটে উদ্বিগ্ন কৃষকরা সেচের মাধ্যমে চারা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। জেলার সদর, শরণখোলা ও মোল্লাহাট উপজেলায়ও একই অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় কৃষক শেখ আসাদুর রহমান প্রতি বছর পাঁচ একর জমিতে ধান লাগান। জমিতে উৎপাদিত ধান বিক্রি করে তিনি সংসার চালান। এ বছর দ্বৈত সংকটে পড়েছেন আসাদ। 

প্রথমবার যে বীজতলা তিনি তৈরি করেছিলেন তা পানি সংকটের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। পরে দ্বিতীয়বার বীজতলা তৈরি করলে সেটাও গৃহপালিত পশুরা খেয়ে ফেলছে।

আসাদ বলেন, “শুকনো জমিতে চারা রোপণ করা যায় না। এই মৌসুমে পানির অভাবে কোনো চারা রোপন করতে পারিনি। আমন চাষের মৌসুম প্রায় শেষের দিকে, মানে এ বছর আমি কোনো ধান চাষ করতে পারব না। আমি জানি না আমি কীভাবে বাঁচব।”

ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন দাস কয়েকটি দেশের কৃষি পদ্ধতি দেখেছেন। ইউএনবির সাথে আলাপকালে তিনি জেলায় চলমান কৃষি সঙ্কট নিরসনে কিছু ধারণা দেন।

স্বপন বলেন, “পানি ও মাটি নিয়ে গবেষণা করে ধানের নতুন রূপ উদ্ভাবন করতে হবে। সেচের মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌরশক্তি ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া বর্তমান সেচ পদ্ধতিতে ভর্তুকি বাড়াতে হবে ও বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে।”

বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান পানির সংকট মোকাবেলায় ধান চাষে পানির পাম্প ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

আজিজুর বলেন, “ক্ষতি কমানোর জন্য, আমরা কৃষকদের বিআর-২৩ রূপের ধান চাষ করার ও জলের পাম্প ব্যবহার করে তাদের জমিতে সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। বর্তমানে, জেলায় মোট ৪ হাজার ৫০০টি পানির পাম্প চলছে।”

আজিজুর আরও জানান, চারা রোপণের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

আজিজুর যোগ করেন, “সরকার এ বছর আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে কি না তা জানতে আমাদের ফসল কাটার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”

About

Popular Links