Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চলে গেলেন ভাষাসৈনিক রণেশ মৈত্র

রণেশ মৈত্র এক ডজনের বেশি গ্রন্থের লেখক। ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, তাঁতি অধিকার প্রতিষ্ঠা, ঘুঘুদহ ও বিল কুড়ানিয়ার খেতমজুরদের আন্দোলনসহ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:১৮ পিএম

ভাষাসৈনিক একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। 

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।

রাজনীতিবিদ, লেখক, সাংবাদিক রণেশ মৈত্রের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাণী ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ তারেক।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য জানান, জ্বর ও কাশির উপসর্গ থাকায় রবিবার রণেশ মৈত্রকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি বলেন, “তার (রণেশ মৈত্র) মরদেহ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রাখা হবে। আজ অথবা আগামীকাল তার ছেলে অস্ট্রেলিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে শাহবাগের ন্যাপ অফিসে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হবে।”

রণেশ মৈত্র এক ডজনের বেশি গ্রন্থের লেখক। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, তাঁতি অধিকার প্রতিষ্ঠা, ঘুঘুদহ ও বিল কুড়ানিয়ার খেতমজুরদের আন্দোলনসহ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি।

রণেশ মৈত্র স্ত্রী পূরবী মৈত্র, দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৯৩৩ সালের ৪ অক্টোবর রাজশাহী জেলার নওহাটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রণেশ মৈত্র। তার পৈত্রিক নিবাস পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া গ্রামে। বাবা রমেশ চন্দ্র ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সপ্তম শ্রেণিতে ওঠার পর থেকেই রণেশ মৈত্র টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন।

জীবন সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়েই রণেশ মৈত্র দেশের অসহায়, শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেন। ১৯৫০ সালে পাবনা জিসিআই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৫৫ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৫৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫১ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নওবেলাল পত্রিকার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু। এরপর কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সত্যযুগে তিন বছর সাংবাদিকতার করে ১৯৫৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে ডেইলি মর্নিং নিউজ এবং ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত দৈনিক অবজারভারের পাবনা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে দি নিউ নেশনের মফস্বল সম্পাদক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দি ডেইলি স্টারের পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পরে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে দেশের শীর্ষ পত্রপত্রিকায় কলাম লিখে সারাদেশে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন রণেশ মৈত্র।

এছাড়া ১৯৬১ সালে পাবনায় পূর্ব পাকিস্তান মফস্বল সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত পূর্ব-পাকিস্থান সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে মফস্বল সাংবাদিকরা তাদের পেশার স্বীকৃতি পান। সেই বছরেই প্রতিষ্ঠিত পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন রণেশ মৈত্র।

এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে জেলার সাংবাদিকদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তিনি ২০১৮ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি।

১৯৪৮ সালে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রণেশ মৈত্রের রাজনৈতিক জীবন। একই সময়ে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িয়ে পড়েন।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে তিনি পাবনা জেলার অন্যতম সংগঠক ছিলেন। সেই বছরেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ অবজারভারের আব্দুল মতিন, কামাল লোহানীসহ প্রগতিশীল বন্ধুদের সঙ্গে গঠন করেন শিখা সংঘ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। সেখানে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার ছিল, যেখান থেকে শিখা নামে একটি হাতে লেখা পত্রিকাও প্রকাশিত হতো।

About

Popular Links