Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আত্রাই শুকিয়ে মাছ সংকট, নওগাঁয় শুঁটকি শিল্পে স্থবিরতা

মৌসুমের শুরুতেই শুঁটকি তৈরির জন্য চাতাল প্রস্তুত করা হলেও মাছের অভাবে সেগুলো এখন মাছ শূন্য ফাঁকা পড়ে রয়েছে

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:০৫ পিএম

উত্তর জনপদের মৎস্য ভাণ্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ে দেশি প্রজাতি মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে শুঁটকির ভরা মৌসুমেও শুঁটকি তৈরিতে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা।

এই পেশার সাথে জড়িতদের জীবন ও জীবিকায় পড়েছে বিরূপ প্রভাব। অবৈধভাবে মৎস্য আহরণের ফলে ক্রমেই কমতে শুরু করেছে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা। 

মৌসুমের শুরুতেই শুঁটকি তৈরির জন্য চাতাল প্রস্তুত করা হলেও মাছের অভাবে সেগুলো এখন মাছ শূন্য ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ফলে শুঁটকি ব্যবসায়ীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভরা মৌসুমে এই অঞ্চলের শুঁটকি সংশ্লিষ্টদের সময় কাটে চরম ব্যস্ততায়। কিন্তু চলতি মৌসুমে সেখানে সময় কাটছে অলসভাবে।

বর্ষা মৌসুমে শুঁটকি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণ নিশ্চিত করেন শুঁটকি সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বছর বর্ষা বা বন্যা না হওয়ায় জলাশয় পানিশূন্য থাকায় দেখা দিয়েছে দেশীয় মাছের তীব্র সঙ্কট। মাছ কম আসায় দামও বেড়েছে। এতে বেড়েছে শুঁটকি তৈরির খরচ। সবমিলিয়ে শুঁটকি ব্যবসায়ীদের মনে আনন্দ নেই।

এজন্য তারা দায়ী করেছেন, একসময়ের শক্তিশালী আত্রাই, পুনর্ভবা, তুলসীগঙ্গা ও ছোট যমুনা নদীসহ এ অঞ্চলের নদী ও খালগুলোতে অসময়ে মাছ আহরণ ও নদী শুকিয়ে যাওয়াকে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী উসমান শেখ বলেন, দেশের উত্তরের জেলা সৈয়দপুর, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, জামালপুর ও ঢাকায় সরবরাহ হয় নওগাঁর আত্রাইয়ের শুঁটকি। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় এবং খাল-বিলের পানি শুকিয়ে আসায় দেশীয় মাছে উৎপাদন কমে গেছে। এতে শুঁটকি উৎপাদন কমে গিয়েছে।

ব্যবসায়ী মোজাহার মোল্লা বলেন, আমাদের এলাকার শুঁটকির প্রধান মাছ পুঁটি, টাকি ও খলিশা। এক মণ পুঁটি শুকিয়ে ১৫ কেজি, চার মণ টাকি থেকে এক মণ এবং তিন মণ খলিশা মাছ শুকিয়ে এক মণ শুঁটকি হয়। তবে খাল-বিলে মাছ না থাকায় এবার ব্যবসা ভালে হবে না বলে জানান তিনি। 

শুঁটকি ব্যবসায়ী আব্দুস ছাত্তার সরদার বলেন, শুঁটকি ব্যবসার সাথে আমরা দীর্ঘদিন থেকে জড়িত। শুঁটকি তৈরিতে অর্থ খরচের সাথে প্রচুর শ্রম দিতে হয়। রোদ-বৃষ্টি ও মাছের দুর্গন্ধ সবকিছুকে উপেক্ষা করে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে এ পেশা চালিয়ে আসছি। অনেকে শুঁটকি  তৈরির সাজসরঞ্জাম তৈরি করলেও মাছ অভাবে সেগুলো পড়ে রয়েছে। এবারে ব্যবসা মন্দা হওয়ায় সারা বছর পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা কিভাবে চলবো তা নিয়ে আমরা চরম উদ্বিগ্ন রয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, শুঁটকির সঙ্গে জড়িতদের স্বাস্থ্য সম্মতভাবে শুঁটকি তৈরিতে গত বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে অবৈধ মৎস্য আহরণ ও মা মাছ শিকার থেকে বিরত থাকতে হবে। 

তিনি বলেন, আত্রাই উপজেলায় প্রতি বছর প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদন হয়। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে শুঁটকি তৈরি শুরু হয়, চলে পৌষ-মাঘ মাস পর্যন্ত। এসময় টা ব্যস্ত সময় পার করেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। আত্রাই আহসানগঞ্জ রেললাইনের দুইপাশে ও কেডিসি সংলগ্ন এলাকায় মাচাতে শুঁটকি মাছ শুকানো হয়। কিন্তু এ বছর মাছের অভাবে অনেক মাচা ফাঁকা পড়ে আছে বলে তিনি জানান।

About

Popular Links