Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আদালতে মিথ্যা বলে ফেঁসে গেলেন ১১ জন

মামলা মীমাংসা করার জন্য ভুক্তভোগী সাইফুলকে না জানিয়ে বাদী ও আসামিপক্ষ মিলে এই পরিকল্পনা করে

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৪৫ পিএম

গোপালগঞ্জে মারপিটের একটি মামলায় ভুক্তভোগী সেজে সাক্ষ্য দিতে এসে শহিদুল শেখ (৪২) নামের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ঘটনার সময় মামলার বাদী এজলাস থেকে পালিয়ে যান।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোপালাগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ওই ঘটনা ঘটে। 

ভুয়া সাক্ষ্য দিতে এসে গ্রেপ্তার শহিদুল শেখ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ডাঙ্গাদুর্গাপুর গ্রামের সফিউদ্দিন শেখের ছেলে।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের পর ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. জামিল আহমেদ বাদি হয়ে মারপিট মামলার ভুয়া ভুক্তভোগী শহিদুল শেখ, বাদি মো. তারা মিয়া ও আসামি পক্ষের ১০ জনসহ ১২ জনকে আসামি করে গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অনুশ্রী রায়ের আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে মুকসুদপুর উপজেলার ডাঙ্গাদুর্গাপুর গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সাইফুল শেখকে মারপিট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় সাইফুলের চাচা মো. তারা শেখ বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় একটি মামলা করেন। 

মঙ্গলবার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ওই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। মামলার মূল ভুক্তভোগী সাইফুল শেখ সেজে কাঠগড়ায় সাক্ষ্য দিতে ওঠেন তাঁর ছোট ভাই শহিদুল শেখ। মামলা মীমাংসা করার জন্য ভুক্তভোগী সাইফুলকে না জানিয়ে বাদী ও আসামিপক্ষ মিলে এই পরিকল্পনা করে।

ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য গ্রহণের শুরুতে আদালতে বিচারক মো. সাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া নাম জানতে চান। শহিদুল শেখ এ সময় তার নিজের নাম বলে ফেলেন। তৎক্ষণিক আবার নাম বলেন সাইফুল শেখ। এতে আদালতের সন্দেহ হলে সাক্ষীর পরিচয়পত্র দাখিলের আদেশ দেন। একপর্যায়ে শহিদুল শেখ স্বীকার করেন তিনি সাইফুল শেখ নন।

প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে মিথ্যা পরিচয়ে শপথবাক্য পাঠের অপরাধে আদালত ভুয়া সাক্ষী, বাদী ও আসামিপক্ষের ১১ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পাশাপাশি ওই মামলার বাদীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

মামলার ভুক্তভোগী সাইফুল শেখ বলেন, আমি ডাঙ্গাদুর্গাপুর গ্রামের ফারুক মুন্সির কাছ থেকে ২৬ শতাংশ জমি কিনেছিলাম। পরে ফারুক আমাকে বেকায়দায় ফেলতে ওই ২৬ শতাংশ জমি থেকে ২ শতাংশ জমি মো. জেজাউল মুন্সি ও হাসান সুন্সির কাছে বিক্রি করে দেয়। এনিয়ে বিরোধের জের ধরে ২০২০ সালের সেপ্টেমবর মাসে আমাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারত্মক আহত করে। এ ঘটনায় আমার চাচা মো. তারা মিয়া বাদী হয়ে মো. মোশারেফ মোল্যা, হাসান, রেজাউলসহ ১০ জনকে আসামি করে মুকসুদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে এলাকায় সালিশ বৈঠক বসানো হয়। আমি সেখানে ওই দুই শতাংশ জমি হাসান ও রেজাউলকে লিখে দিতে বলি। কিন্তু তারা এতে রাজি হয়নি। পরে মামলার বাদী আমার চাচা মো. তারা মিয়া আসামিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে চেষ্টা করেন। সে কারণে তারা মিয়া ও মামলার আসামিরা আমার বদলে আমার ভাইকে ভূয়া ভুক্তভোগী সাজিয়ে আদালতে হাজির করে ধরা খেয়েছে।

About

Popular Links