Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘পর্যটকদের গলা কাটছে’ কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা

আবাসিক হোটেলগুলোতে রুম ভাড়ার তালিকা টানানোর নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ হোটেল তা মানছে না। তারকামানের হোটেলের পাশাপাশি নিম্নমানের হোটেলগুলোও রুমের ভাড়া বাড়িয়েছে যেনতেনভাবে

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৫৬ পিএম

কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় বাড়লেই হোটেল-মোটেলে শুরু হয় “গলাকাটা বাণিজ্য”। কে কত বেশি টাকা “হাতিয়ে নিতে পারে” সেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও যেন দেখার কেউ নেই। হোটেল ভাড়া নিয়ে কোনো তালিকা না থাকায় অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে করে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

কক্সবাজারে চলতি পর্যটন মৌসুম শুরু হয় বিশ্ব পর্যটন দিবসকে ঘিরে। গত ৩ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সপ্তাহব্যাপী আয়োজন করে পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভালের। মেলা উপলক্ষে হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ ছাড় ঘোষণা করলেও তা মানতে নারাজ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। 

পর্যটনের ভরা এই মৌসুমে আবাসিক হোটেল ও রেস্তোঁরাগুলো গলাকাটা বাণিজ্য শুরু করেছে। আবাসিক হোটেলগুলোতে রুম ভাড়ার তালিকা টানানোর নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ হোটেল তা মানছে না। তারকামানের হোটেলের পাশাপাশি নিম্নমানের হোটেলগুলোও রুমের ভাড়া বাড়িয়েছে যেনতেনভাবে। হোটেল মোটেল জোনের অধিকাংশ হোটেল পাঁচশো থেকে এক হাজাট টাকা মুল্যের রুমে ভাড়া বৃদ্ধি করে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করেছে। শুধু তা নয়, রুম নিতে হলে দুই রাতের জন্য নিতে হবে- এমন শর্ত দিয়েছে তারা।

রাজধানী ঢাকার উত্তরা থেকে আসা ফাহিম চৌধুরী ঢাকা ট্রিবিউনকে অভিযোগের সুরে বলেন, “টানা ছুটি কাটাতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। অনেক দিনের পরিকল্পনা ছিল কক্সবাজার সৈকত ঘুরে বেড়ানোর। কিন্তু তা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা এখন আর নেই। হোটেল ভাড়া বেশি হওয়ায় চিন্তায় পড়েছি।”

আনোয়ার হালিম নামে এক পর্যটক বলেন, “আমরা ঢাকা থেকে কয়েকজন বন্ধু কক্সবাজার এসেছি। এখানে এসে শহরের গণপূর্ত ভবনের পাশে গড়ে ওঠা গ্রিণ কক্স এবং কক্স হিলটপ হোটেলে রুম ভাড়া নিতে গেলে তারা প্রতি রুম সাড়ে ৮ হাজার টাকা চেয়েছে। আমরা সবাই ছাত্র, এত টাকা আমাদের নেই। ফলে সস্তায় হোটেল খুঁজতে হয়েছে। তাও এক রাতের জন্য পড়েছে চার হাজার টাকা। যদিও হোটেলের গুণগতমান অত্যন্ত নিম্নমানের।”

অভিসার নামের একটি আবাসিক হোটেলের দুই হাজার টাকার কক্ষের ভাড়া উঠেছে সাত থেকে আট হাজার টাকা। পর্যটকদের অভিযোগের ভিত্তিতে হোটেলটির এক্সিকিউটিভ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে জানতে চাওয়া হয় একটি রুমের ভাড়া কত? তিনি জানান, একটি রুমের ভাড়া একদাম ছয় হাজার টাকা দিতে হবে। কমানো যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সময়ে দামাদামি বা ছাড়ের কোনো সুযোগ নেই।

পরে হোটেল অভিসারের ব্যবস্থাপক লিটন পালকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, “আমাদের হোটেলে রুমের ভাড়া সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৭৫০ টাকা এবং সর্বনিম্ন দুই হাজার ২৫০ টাকা। এখানে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কোনো মানে হয় না। আমরা পর্যটকবান্ধব।”

এসব হোটেল-মোটেলের মতো কক্সবাজারে আরও বেশ কয়েকটি আবসিক হোটেল ও রেস্তোঁরায় এমন গলাকাটা বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “হোটেল রুমের ভাড়া অতিরিক্ত না নেওয়ার জন্য আগে থেকে বলা আছে।”

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, “যারা অতিরিক্ত দামে হোটেল রুমের ভাড়া নিয়ে পর্যটন খাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About

Popular Links