Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘যাকে ঘিরে জমে উঠতো উৎসব’, তাকে ঘিরেই কান্নার রোল

নিজের বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বিজয় ধর

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২২, ০৯:২৭ এএম

দুদিন পরেই ছিল বিয়ে। স্বজনদের দাওয়াত দিতে যাচ্ছিলেন বর বিজয় ধর (২৮)। সেখানেই এক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনার পরে বিয়েবাড়িতে এখন উৎসবের বদলে চলছে মাতম।

রবিবার (৯ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌর এলাকার নানুপুর-মাইজভান্ডার সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন মোটরসাইকেল আরোহী বিজয় ধর। 

এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন সঙ্গে থাকা তার বন্ধু রাজেশ ধর। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে বিজয় ধরের লাশ সোমবার বাড়িতে আনা হয়েছে। এই বাড়িতেই শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) ছিল তার বিয়ের অনুষ্ঠান। মহা ধুমধামে চলছিল বিয়ের আয়োজন।

বিজয় ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীবাড়ির রুপাল ধরের ছেলে।

মরদেহ বাড়িতে আনার পরেই এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়। বর-কনে দুই বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। কেউ কাউকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা পাচ্ছিল না। সন্ধ্যায় বিজয় ধরের বাড়ির কাছের শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

বিজয় ধরের জন্য কেনা বিয়ের শেরওয়ানি/সংগৃহীত

নিহত বিজয় ধরের বড় ভাই অজয় ধর বলেন, ‘‘বিজয় ধরের বিয়ের তারিখ শুক্রবার ঠিক করা ছিল। মেয়ে তারই পূর্ব পরিচিত আমাদের এলাকার। তারা দু’জনের মধ্যে জানাশোনা ছিল। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের আয়োজন হয়। দুই পরিবারের সম্মতিতেই শুক্রবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।’’

এদিকে বিজয় ধরের বন্ধু মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘বাড়ির পাশেই মাত্র ৪০-৫০ গজ দূরে মেয়ের বাড়ি। তাদের সঙ্গে চার-পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবারই তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল। বিয়ের দিনও ঠিক হয়। এরমধ্যে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সব পাল্টে গেলো।’’

এদিকে বিজয় ধরকে হারিয়ে তার বাগদত্তার পাগল প্রায় অবস্থা। সোমবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে দেওয়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সে লিখেছে, ‘‘বিজয় তুমি কি আমার জীবনের এতটুকু থাকার জন্য এসেছো, আমি তো তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া আমি কিছুই ভাবতে পারছি না।’’

‘‘এতটুকু যদি থাকার কথা ছিল, তাহলে কেন আসছো আমার জীবনে... আমি যে সহ্য করতে পারছি না। আমি প্রতিদিন কার সঙ্গে কথা বলবো, কার সঙ্গে আমি সময় কাটাবো? তুমি ছাড়া যে আমার সব শূন্য... আমার শুধু এখন তোমাকেই দরকার। তুমি ছাড়া আমি কিছুই বুঝছি না।’’

‘‘আমায় এত কষ্ট কেন দিলে, আমি তো কোনও দিন কল্পনা করিনি, তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে... মরার আগে আমার কথা কি একটুও মনে ছিল না, আমার জন্য হলেও বেঁচে যেতে। আমি তোমাকে সুস্থ করে তুলতাম।’’

‘‘আমাকে তোমার হাতে সিঁদুর পরাবে না? আমার হাত ধরে তোমার ঘরে নিয়ে নিয়ে যাবে না? তুমি আমাকে কয়দিন বলেছিলে-আমাদের অনেক দিনের ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে, তাহলে আজ কোথায় তুমি? আমাকেও নিয়ে চলো না তোমার কাছে, আমার একা একা ভালো লাগছে না। খুব কষ্ট হচ্ছে..’’

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বিকালে মেবাইল ফোনে কথা হয় দুর্ঘটনায় নিহত বিজয় ধরের পিতা রূপাল ধরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘আমার তিন ছেলে। বড় ছেলে অজয় ধর, মেঝ ছেলে ছিল বিজয় ধর ও ছোট ছেলে হৃদয় ধর। শুক্রবার মেঝ ছেলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এ লক্ষ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন হয়। চলছিল বিয়ের দাওয়াত দেওয়ার কাজ। আমি দাওয়াত দেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম পটিয়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে। বিজয় তার বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে আশপাশের এলাকায় দাওয়াত দিচ্ছিল। পরে পটিয়া থাকা অবস্থায় শুনলাম বিজয় অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। আমি এসে আর ছেলেকে পাইনি।’’

তখন আর ছেলে বেঁচে নেই বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

ফটিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক নুরুল ইসলাম বলেন, নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়িটির চালকসহ পালিয়ে যাওয়ায় জব্দ করা যায়নি।

About

Popular Links