Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘ধর্মের ইতিবাচক দিক গণমাধ্যমে প্রচারের আহ্বান’

বৈঠকে এসডিজি অর্জনে সংবাদমাধ্যম ধর্মীয় বিশ্বাসের ভূমিকাকে কীভাবে আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে পারে সেসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:৪৫ এএম

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল সমাজ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ধর্ম সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। আর সেসব বিষয় গণমাধ্যমে উঠে আসাও জরুরি।

বুধবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার লেকশোর হোটেলে ‘‘ফেইথ মিডিয়া অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এমন মত ব্যক্ত করেন।

আন্তঃদেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ল্ড ফেইথস ডেভেলপমেন্ট ডায়ালগের সহায়তায় সেন্টার ফর কমিউনিকেশন অ্যাকশন বাংলাদেশ (সি-ক্যাব) এ বৈঠকের আয়োজন করেবৈঠকে এসডিজি অর্জনে সংবাদমাধ্যম ধর্মীয় বিশ্বাসের ভূমিকাকে কীভাবে আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে পারে সেসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা ও তরুণ অ্যাক্টিভিস্টরা উপস্থিত ছিলেন। 

সূচনা বক্তব্যে বৈঠকের সঞ্চালক সি-ক্যাবের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ জেইন আল-মাহমুদ বলেন, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ধর্ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ফলে টেকসই উন্নয়নের জন্য এই সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংবেদনশীল হওয়ার কারণে গণমাধ্যম এই বিষয়কে এড়িয়ে চলতে চায়।

ওয়ার্ল্ড ফেইথস ডেভেলপমেন্ট ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ও ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলি সেন্টার ফর রিলিজিয়ন পিস অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র ফেলো ক্যাথরিন মার্শাল বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় মিডিয়া যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা বোঝা জরুরি। ফলে ধর্ম ও উন্নয়নের সংযোগ স্থাপনে আরও কাজ করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল কাদের খান বলেন, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহিষ্ণুতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা এড়াতে গণমাধ্যমের উচিত সত্য সংবাদ প্রচার করা।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজমের অধ্যাপক জুড হেনিলো বলেন, বিজ্ঞান প্রতিবেদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্পোর্টস রিপোর্টিং-এ মিডিয়া কভারেজের সময় বিশেষ প্রতিবেদক থাকেন। একইভাবে ধর্মীয় সংবাদ প্রতিবেদন প্রস্তুতেও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে নিযুক্ত থাকতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়ন্স এন্ড কালচার বিভাগের শিক্ষক ড. ফাদার তপন ক্যামিলাস ডি রোজারিও বলেন, গণমাধ্যমের উচিত ধর্মভিত্তিক বিষয়গুলো নিয়ে সঠিক সংবাদ প্রকাশ করা। 

তিনি আরও বলেন, ধর্মভিত্তিক সংবাদ কভার করেন এমন সাংবাদিকদের ধর্ম সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের ডিজিটাল বিভাগের এডিটর করিম ওয়াহেদ বলেন, সংবাদ কভারেজের জন্য গণমাধ্যমের সুস্পষ্ট দায়বদ্ধতা রয়েছে। 

তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসীদের মধ্যে সহিংসতা এড়াতে তৃণমূল জনগণের মধ্যে প্রচার ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে।

ঢাকা ট্রিবিউনের সহকারী বার্তা সম্পাদক আনন্দ মোস্তফা বলেন, কিছু বেসরকারি লাইসেন্সবিহীন মিডিয়া মন্দির ও জাতিগত মানুষের ওপর হামলার বিষয়ে ভুয়া খবর ছড়ায়। তবে প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যম সেগুলো ফ্যাক্ট চেকের জন্যে অপেক্ষা করে। কারণ এসব সংবাদ মাধ্যমগুলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে বিশ্বাস করে।

সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে ময়োপযোগী, নির্ভুল ও কার্যকর তথ্যেপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মিডিয়া ও যোগাযোগ নিয়ে কাজ করে সেন্টার ফর কমিউনিকেশন অ্যাকশন।

ডব্লিউএফডিডি জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এটি ধর্ম ও বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে নানা কাজ করে আসছে।

About

Popular Links