Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘রোহিঙ্গাদের ভার বাংলাদেশে চাপিয়ে বিশ্ব সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছে মিয়ানমারে’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব এখনো সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেনি। সাম্প্রতিককালেও তারা মিয়ানমারে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ছিল

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২২, ১২:২২ পিএম

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে বিশ্ব “কিছু করেনি” বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ বৈশ্বিক সহায়তা ছাড়াই ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।”

বুধবার (২৬ অক্টোবর) দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে এসব কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক এবং প্রত্যাবাসন সমাধানে বিশ্ব একেবারে কিছুই করছে না। তারা এখনো তাদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেনি। সাম্প্রতিককালেও তারা মিয়ানমারে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ছিল। আপনি জানেন, এটা কতটা বেমানান?”

শাহরিয়ার আলম বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রতি বছর হ্রাস পেয়েছে এবং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থেকে পালিয়ে ৭ লাখেরও বেশি লোক বাংলাদেশে আসার পর থেকে বিগত পাঁচ বছরে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পূর্ববর্তী সময়ে নিরাপত্তা অভিযানের কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ৩ লাখ লোকের সঙ্গে এসে তারা ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে যোগ দেয়।”

তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যা মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে জোরপূর্বক দেশ ছাড়তে বাধ্য করা সংক্রান্ত মামলায় ব্যাপকতর আন্তর্জাতিক সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাদের ভ্রমণ এবং অর্থের ওপর প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এসব ব্যক্তি খুব কমই ভ্রমণ করে থাকেন।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের মানবিক আবেদন এ বছর প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র এক তৃতীয়াংশ পেয়েছে।” বিশ্বব্যাপী ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আগামী বছর আরও কম অর্থ দেওয়া হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করছেন।

১৯৮২ সালে বেশিরভাগ মুসলিম রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তারা সহিংস সামরিক অভিযানের পাশাপাশি আন্দোলন করা, ধর্ম পালন করা, স্বাস্থ্যসেবা লাভ এবং শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণের শিকার হয়েছে।

১৯৭৮ এবং ১৯৯১ সালে সামরিক দমন থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করা হয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি ওই (অতীতের) চুক্তিগুলোর মধ্যে কয়েকটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কিন্তু এবার, বাংলাদেশ সরকার একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের কিছু মৌলিক অধিকার দেওয়া না হলে, এই লোকেরা কখনই ফিরে যেতে রাজি হবে না।”

তিনি বলেন, “খুব কম সংখ্যায় রোহিঙ্গাদের ফেরত দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ প্রয়াস ভবিষ্যতে আরও বড় সংখ্যাক রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।”

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কিছু লোককে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের ওপর বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে লাঘব করার জন্য আরও কয়েকটি দেশের অনুরূপ প্রস্তাব দিতে হবে।”

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ দুবার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করেছে কিন্তু কেউই ফিরতে রাজি হয়নি। মৌলিক পরিষেবা লাভের সুযোগ এবং ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকির বিষয়ে মানবিক গোষ্ঠীগুলোর উদ্বেগ সত্ত্বেও সরকার ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপ শিবির ভাসানচরে স্থানান্তরিত করেছে।

About

Popular Links