Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইতালি থেকে এসেছে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স

২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশিরা। তখন তারা পাঠিয়েছিলেন ৮৭৩ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৮,৭৬৮ কোটি টাকা, যা মোট রেমিট্যান্সের ১১.৩%

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২২, ১১:০৫ পিএম

ইতালিতে বসবাসকারী অভিবাসীদের দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স ২০২১ সালে বেড়ে ৭৭০ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে দেশটি থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাঠান বাংলাদেশিরা।

রোমের আইডিওএস স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ২০২১ সালের অভিবাসন পরিসংখ্যান সংক্রান্ত রিপোর্টে এ কথা জানা গেছে।

রিপোর্টে বলা হয়, গত দুই বছরে নানান অস্থিরতা সত্ত্বেও ইতালিতে বসবাসকারী বিদেশিদের মাধ্যমে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

২০২০ সালে ১২.৫% অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধির তুলনায় এটি আরও অনেকটা বেশি। আইডিওএস স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার গত মাসে এ তথ্য জানিয়েছে।

সেন্টারটি বলেছে, ‘‘পেমেন্ট ইনস্টিটিউট এবং অন্যান্য অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর ২০২১ সালে মোট ৭৭০ কোটি ইউরো। ২০২০ সালের তুলনায় যা ১৪.৩% বেশি।''

এটি গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি বলে জানিয়েছে তারা। ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের সময়কালে আন্তর্জাতিক সংকটের জন্য রেমিট্যান্স ‘‘স্থিতিশীলভাবে'' বার্ষিক সাত বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছিল। ২০১১ সালে যা ছিল রেকর্ড সংখ্যক আট বিলিয়ন ইউরো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘রেমিট্যান্স বৃদ্ধির প্রবণতা সম্ভবত ২০২২ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ বছরের প্রথম তিন মাসে ইতালি থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৭% বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ২০২১ সালের মতো একইরকম প্রবাহ রয়েছে।''

২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশিরা। তখন তারা পাঠিয়েছিলেন ৮৭৩ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৮,৭৬৮ কোটি টাকা, যা মোট রেমিট্যান্সের ১১.৩%। তারপরে ছিল পাকিস্তান (৫৯৭ মিলিয়ন বা ৭.৭%) এবং ফিলিপাইন (৫৯০ মিলিয়ন বা ৭.৬%)।

২০২১ সালে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রায় ২০-৩৫%।

মরক্কো (+২৭.৭%) এবং সেনেগালের (+১৯.৬%), পাশাপাশি পেরু, ইকুয়েডর এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকে (+১৪/১৬%) পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

যদিও সপ্তম বছরে রোমানিয়া (-৬.৮%) এবং ইউক্রেনের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমেছে (-৬.২%)।

রেমিট্যান্স, রাজস্ব, অর্থনৈতিক অবদান এবং ইতালিতে বিদেশি জনসংখ্যার পরিসংখ্যান ছাড়াও ইতালি এবং লিবিয়ার মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সম্পর্কে সতর্কতা জারি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বেসরকারি সংস্থাগুলো লিবিয়ার সঙ্গে ইটালির এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছে। সরকার এটি বন্ধ না করলে নভেম্বরে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে চুক্তি নবায়ন হওয়ার কথা।

প্রতিবেদন বলছে, ‘‘(ইইউ) ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের অভিবাসন এবং আশ্রয়ের নতুন চুক্তির দ্বারা প্রস্তাবিত সমাধানগুলো সিস্টেমের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে অনেকগুলো গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তবে মূল সমস্যা মোকাবিলার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।''

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘‘অভিবাসী এবং শরণার্থীদের নির্যাতন ও শোষণের একাধিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইতালি এবং ইইউ চুক্তি অব্যাহত রেখেছে। অভিবাসী নৌকা আটকাতে লিবিয়ার বাহিনীকে অর্থায়ন করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের স্বাধীন মিশন ২০২১ সালের অক্টোবরে যেটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' বলে অভিহিত করেছিল।''

শুধুমাত্র গত বছরেই ৩২ হাজার ৪৫০ জনকে সমুদ্রে আটক করে লিবিয়ায় ফেরানো হয় বলে জানা গেছে।

About

Popular Links