Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আহরণ নিষিদ্ধ শামুক ঝিনুকের জমজমাট বাজার!

শামুক-ঝিনুককে বলা হয় প্রকৃতির ফিল্টার। জলাশয় থেকে ময়লা-আবর্জনা খেয়ে পানিকে দুষণমুক্ত রাখতে সহায়তা করে এটি। বন্যপ্রাণী নিধন আইনে প্রাকৃতিক উৎস থেকে শামুক-ঝিনুক আহরণ নিষিদ্ধ

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২২, ০৫:০০ পিএম

শামুক-ঝিনুককে বলা হয় প্রকৃতির ফিল্টার। জলাশয় থেকে ময়লা-আবর্জনা খেয়ে পানিকে দুষণমুক্ত রাখতে সহায়তা করে এটি। বন্যপ্রাণী নিধন আইনে প্রাকৃতিক উৎস থেকে শামুক-ঝিনুক আহরণ নিষিদ্ধ। তবে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। খুলনার কয়রা পাইকগাছায় নদ-নদী থেকে অবাধে চলছে শামুক ঝিনুক আহরণ। 

এসব শামুক ঝিনুক কেনা-বেচায় পাইকগাছায় গড়ে উঠেছে আড়ৎ। চুন তৈরির প্রধান উপাদান হওয়ায় শামুক ঝিনুকের এই রমরমা ব্যবসা চলছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, ছাত্র-কৃষক সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভাটার সময় শাকবা‌ড়িয়া নদী থেকে আহরণ করছে শামুক ও ঝিনুক। আর পাইকগাছার চাঁদখালী বাজা‌রের কয়েকজন ব‌্যবসা‌য়ী দীর্ঘ‌দিন ধরে এগুলো ক্রয়-বিক্রয় করছেন।

কয়রার বৃদ্ধ হোসেন গাজী জানান, ঝিনুক কুঁড়িয়ে তার বেশ আয় হচ্ছে। দিনে দেড় থেকে দুই মণ ঝিনুক পা‌ওয়া পাচ্ছেন। পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে ঝিনুক কুঁড়ান শা‌হিনুর রহমান। আবার অন্যদের কাছ থেকে কেনেন তিনি। পরে সেগুলো পাইকগাছার চাঁদখালী বাজারে বি‌ক্রি করেন।

তা‌মিম হোসেন নামে এক কিশোর জানায়, সে চারদিন আগে জানতে পেরেছে এখানে ভালো শামুক পাওয়া যায়। বিক্রিও সহজ। তারপর থেকে সে শামুক কুড়াচ্ছে। বিক্রি করছে ১২০ থেকে ২৪০ টাকা মণ দরে।

চাঁদখালী বাজারের এক ব‌্যবসা‌য়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা মণ দরে শামুক ঝিনুক কিনছেন। এটা দিয়ে চুন তৈ‌রি করেন।

চাদখালির ইউপি সদস্য মো. কাইয়ুম হোসেন বলেন, “চাঁদখালী বাজারের বেশ কিছু ব্যক্তি ঝিনুকের ব্যবসা করেন।”

কয়রার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল হক বলেন, “শামুক-ঝিনুক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এগুলোকে প্রকৃতির ফিল্টার বলা হয়। বন্যপ্রাণী নিধন আইনে প্রাকৃতিক উৎস্য থেকে শামুক-ঝিনুক আহরণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অবৈধভাবে এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অবাধে শামুক ঝিনুক আহরণেল বিষয়টি অবগত করলে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসা মমতাজ বেগম জানান, খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

About

Popular Links