Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিজিপি-বিজিবি সীমান্ত সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ইতিবাচক বার্তা

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আমরা যেসব বিষয় বলেছি, তারা প্রতিটি জায়গায় অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শুনেছেন। এসব গ্রহণ করায় আমরা ইতিবাচক মনোভাব দেখতে পেয়েছি

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১০:০৬ পিএম

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ বলেছেন, “মিয়ানমারের রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। তারা রাখাইনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলেছে। সেখানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিজিপির মিস ফায়ার চলেছে। বিজিপির দাবি, এটা করে তারা সেখানে মানবিক বিপর্যয় রোধ করার চেষ্টা করছে। এটা রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার জন্য ইতিবাচক।”

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

করোনাভাইরাস মহামারির জন্য দুই বছর ১০ মাস পর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে বিজিপি-বিজিবির অষ্টম সীমান্ত সম্মেলন হয়। এ সময় দুই দেশের মধ্যকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে ১২টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে এই সংবাদ সম্মেলন করে বিজিবি।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা যেসব বিষয় বলেছি, তারা প্রতিটি জায়গায় অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শুনেছেন। এসব গ্রহণ করায় আমরা ইতিবাচক মনোভাব দেখতে পেয়েছি এবং তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের বিষয়টা একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আমার মনে হয়েছে তারা এ বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে। এই দেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, এমন ভিডিও আমরা তাদের দেখিয়েছি। যুব জনগোষ্ঠীকে কারিগরি শিক্ষা দিয়ে মানবসম্পদে রূপান্তর করছি। যাতে তারা নিজেদের আবাসে ফিরে যাওয়ার পর নিজেদের চালিয়ে নিতে পারে।”

যৌথ টহলের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল সাকিল বলেন, “সীমান্তে যৌথ টহলের বিষয়ে আশ্বাস নয়, সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা শিগগিরই শুরু হবে। আমি চাই এটাকে চলমান রাখা গেলে গ্রাউন্ড লেভেলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমি বিশ্বাস করি যোগাযোগ বাড়ানো গেলে এটি সম্ভব হবে।”

মায়নমারের সঙ্গে যোগাযোগ জারি রাখার কথা উল্লেখ করে বিজিবি প্রধান বলেন, “উভয় দেশের সীমান্তে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান পরিচালনারও বিষয়ে একমত হয়েছে তারা। কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন যেন সীমান্ত অতিক্রম করে একে অপরের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে, এ জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করবো। এটা তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা রিয়েল টাইম ইনফো শেয়ার করতে পারবো।”

বিজিবি ডিজি বলেন, “আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। সেটি বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বৈঠকে উত্থাপন করেছি। আমরা তাদের বলেছি, মিয়ানমারের যদি সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন উড্ডয়নের প্রয়োজন হয় বা হেলিকপ্টার ইউটার্ন করার প্রয়োজন হয়, সে তথ্য আমাদের দিতে হবে। যেন আমরা ওই দিনগুলোতে লক্ষ রাখতে পারি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে, এ ধরনের কোনো ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না।”

তিনি বলেন, “মিয়ানমার সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে বেশ কিছু বাংলাদেশির হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দেশের নাগরিকও হতাহতের শিকার হয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছি, অসতর্কতাজনিত বাংলাদেশ বা আপনাদের নাগরিকের সংস্পর্শে এলে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আমরা তাদের সহযোগিতা চেয়েছি এবং তারা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।”

মাদক চোরাচালানের বিষয়ে তিনি বলেন, “মাদক কোন অবস্থান থেকে কোন দিকে যাচ্ছে, এ বিষয়গুলো আমরা তাদের কাছে উপস্থাপন করেছি। তারাও পাওয়ার পয়েন্টে দেখিয়েছে। তারাও সমানভাবে মাদকে আক্রান্ত। যৌথভাবে কাজ করে মাদকের রুট যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করবো। আমরা বিওপি পোস্টের মাধ্যমে আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধি করতে বলেছি, যার মাধ্যমে আমরা মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে পারবো। মাদকের ফ্যাক্টরির ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ধ্বংস করার জন্য বলেছি।”

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস ও ট্রেনিং) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এম এম খায়রুল কবির, কক্সবাজারের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজম উস সাকিব, পরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজুর রহমানসহ স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

About

Popular Links