Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পা দিয়ে লিখে পিইসিতে অভাবনীয় কৃতিত্ব সিয়ামের

"আমার দুই হাত না থাকলেও আমার সব কাজ আমি নিজেই করে থাকি। আমি পড়ালেখা করতে চাই। পড়ালেখা করে সরকারি বড় কর্মকর্তা হতে চাই"

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:১৬ পিএম

দুই হাত ছাড়াই জন্ম নিয়েছিলো সিয়াম। পা দিয়েই লিখে এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের সাথে জিপিএ ৪.৮৩ অর্জন করেছে সে।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া গ্রামের দিনমজুর দম্পতি জিন্নাহ মিয়া-জোসনা বেগমের ছেলে মো. সিয়াম মিয়া (১২)। জিন্নাহ-জোসনা দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে সিয়াম সবার ছোট। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই। তবে সে জন্য তার পড়ালেখা, খেলাধুলা কোনকিছুই থেমে থাকেনি।  গত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া ব্র্যাক শিশু নিকেতন স্কুল থেকে অংশগ্রহণ করে ভালো ফল লাভ করেছে সে।

সিয়ামের পরিবার জানায়, জন্মের পর তার দুটি হাত নেই বলে একজন স্বাভাবিক মানুষের মতো কোনো কাজ করতে পারে না সে। তবে লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল তার। ছোটবেলায় ভাইবোনের সাথে স্কুলে গিয়ে বিভিন্ন অক্ষরের উপর পা দিয়ে ঘষামাজা করতে করতে লেখার অভ্যাসটা শুরু হয়। পরবর্তীতে অভ্যাসের সাথে বাম পা দিয়ে লেখার ধারাবাহিকতা শুরু হয়। হাত নেই বলে তার কোনো কাজই থেমে থাকেনি। ক্রিকেট খেলা, সাঁতার কাটা, টিউবয়েল চেপে পানি ভরা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়ার মতো সব কাজই সে পা দিয়ে করে থাকে।

সিয়াম বলেন, "আমার দুই হাত না থাকলেও তাতে আমার কোনো সমস্যা হয় না। পা দিয়ে লিখতে লিখতে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। শুধু তাই না, আমার সব কাজ আমি নিজেই করে থাকি। আমি পড়ালেখা করতে চাই। পড়ালেখা করে সরকারি বড় কর্মকর্তা হতে চাই"।

সিয়ামের বাবা জিন্নাহ মিয়া বলেন, "আমার ছেলে সিয়াম জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তাকে যাতে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, ছেলের স্বপ্ন অনুযায়ী তাকে অফিসার বানাতে পারি সেইজন্য সকলের কাছে দোয়া চাই"।

তিনি আরও বলেন, "একজন দিনমজুর হিসেবে তিন ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা করাতে গিয়ে কখনও কারোর কাছে হাত পাততে হয়নি। বছর খানেক আগে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সিয়ামের অবস্থা দেখে প্রতিবন্ধী কার্ডের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সে থেকে কিছুটা আর্থিক সুবিধা পেলেও এখন অনেকটা কঠিন অবস্থার মধ্যে পার করতে হচ্ছে। এছাড়া সিয়ামের বয়স বাড়ার সাথে সাথে পয়ঃনিষ্কাশনের ক্ষেত্রে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়তে হয়েছে। দিনমজুর হওয়ায় আর্থিক সংকটের কারণে তার জন্য হাই-কোমডযুক্ত টয়লেটের ব্যবস্থা করতে পারিনি। এক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবানদের নিকট সহায়তা চাইবো, যাতে ছেলের পয়ঃনিষ্কাশনের সুবিধাজনক একটা ব্যবস্থা করতে পারি"।

সরিষাবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, "সিয়াম অন্য শিক্ষার্থীদের মতো বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দিতে পারেনি। তার দুই হাত অচল থাকায় সে পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দেয়। সে ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষা চলাকালীন সময় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তার পাশেই ছিলেন। তার এই ভালো রেজাল্ট প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য অবিস্মরণীয়"।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, "পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্র পরিদর্শনে সময় আমি যখন সিয়ামের কথা জানতে পারি, তখন বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে। সেই সাথে তার পরীক্ষার রেজাল্টও আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা জেনে, তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের জি আর ফান্ড থেকে ৫ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য দেয়া হয়। যেহেতু সিয়াম বড় হচ্ছে, পয়ঃনিষ্কাশনের যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তার পড়াশোনার বিষয়ে যেকোনো সমস্যায় সিয়ামের পরিবারের সাথে আছে প্রশাসন"।

About

Popular Links