Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চাকরি দেওয়ার নামে সৌদিতে নারীকে ‘বিক্রি’, দালাল গ্রেপ্তার

একদিন খাবার দেওয়া হলে আরেকদিন না খাইয়ে রাখা হতো। দেশে ফিরতে চাইলে আরও বেশি মারধরের শিকার হতেন

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০১:২২ পিএম

সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতনের ঘটনা প্রায়ই সংবাদের শিরোনামে আসে। দেশীয় কিছু এজেন্ট ও প্রতারক সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সেখানে নারীকর্মীদের বিক্রি করে দেয়। বিক্রি হওয়া নারীদের ভাগ্যে জুটে ভয়াবহ নির্যাতন।

তেমনি নির্যাতনের শিকার এক নারী গত ২২ নভেম্বর দেশে ফিরে এসছেন। দেশে ফেরার পর তিনি ২৪ নভেম্বর চারজনকে আসামি করে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছেন। 

মামলার আসামি হলেন- রাজধানীর ভাটারা থানার সাইদনগর এলাকার এম এস সাসকো ট্রেড লিমিটেডের মালিক সাইফুল ইসলাম (৪৫),রাজধানীর ভাটারা থানার সাইদনগর এলাকার বাবু (৪২); নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মো. মালেক এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার কালিকাপুর এলাকার মো. রুবেল (৪২); তিনি রাজধানীর রমনা থানার কাকরাইল এলাকায় বসবাস করতেন। 

এদের মধ্যে রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসআদ বিন আব্দুল কাদির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী নারী জানান, সৌদি আরবে আসামিরা তাকে বিক্রি করে দিয়েছে। এরপর সেখানে এক বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজে পাঠানো হয় তাকে। সেখানে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। এজেন্সির অফিসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাইনি তিনি। উল্টো নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। একদিন খাবার দেওয়া হলে আরেকদিন না খাইয়ে রাখা হতো। দেশে ফিরতে চাইলে আরও বেশি মারধরের শিকার হতেন।

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় বসবাস করা এই নারী অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “দালাল মালেক ৩০ হাজার টাকা বেতনে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর চাকরি দেওয়ার কথা বলে আগ্রহী করে তুলেছিল। এরপর সাইফুল ইসলাম ও বাবুর সঙ্গে তিনি পরিচয় করিয়ে দেন। পরে তারা সৌদি আরবে পাঠান। সেখানে নিয়ে গিয়ে আমাকে অন্য অফিসে বিক্রি করে দেওয়া হয়। রিয়াদ শহর থেকে প্রায় আট ঘণ্টার দূরত্বের একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ দেওয়া হয় আমাকে।”

ওই নারী বলেন, “মাসিক ১ হাজার রিয়েল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এক মাস ১০ দিন পর ৮২০ রিয়াল দেওয়া হতো আমাকে। বেতন দেওয়ার সময় রিয়েল মুখে ছুড়ে মারতো তারা। এরপর শুরু হতো মারধর। কেন মারধর করা হতো তা বুঝতাম না। এজেন্সির লোকদের বিষয়টি জানিয়েছি। এরপর প্রায় এক সপ্তাহ পর আমাকে এজেন্সি অফিসে নেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, “এর মধ্যে দেশে স্বজনদের বিষয়টি জানালে তারা এজেন্সির মালিক সাইফুলের সঙ্গে কথা বলেন। সাইফুল রুবেলের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে বলেন। রুবেল দেশে ফিরিয়ে আনতে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় যে বাড়িতে ছিলাম সেখানেই পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এতে বাঁচা-মরা তাদের কিছু যায় আসে না বলে জানান।”

পরে আবারও আগের বাড়িতে পাঠানো হয় তাকে। সেখানে ফিরলে মারধরের মাত্রা বেড়ে যায়। বিষয়টির সমাধান পেতে ভুক্তভোগীর বরাতে তার ভাই দেশে পুলিশ-প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগ উঠিয়ে নিতে আবার শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। অবশেষে ২২ নভেম্বর দেশে ফেরেন তিনি।

মামলার বিষয়ে পুলিশ উপপরিদর্শক আসআদ বিন আব্দুল কাদির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এই ঘটনায় আসামি রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রুবেলসহ বাকি আসামিরা যোগসাজশে ওই নারীকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিদেশে পাচার করেছেন। যে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল সেই চাকরি তাকে দেওয়া হয়নি। উল্টো নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।”

About

Popular Links