Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র: নতুন বছরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ১,২০০ মেগাওয়াট

২০১৭ সালের আগস্টে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্প ব্যয় ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫০ পিএম

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০২৪ সালের শুরুতে ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৮৮% কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি জেটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামোর কাজও শেষ পর্যায়ে। আগামী ২০২৪ সালের জানুয়ারির দিকে ৬০০ এবং জুনে আরও ৬০০ সহ মোট ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মূল গ্রিডে যুক্ত হবে।

২০১৭ সালের আগস্টে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) কাজটি বাস্তবায়ন করছে। শুরুতে মূল প্রকল্প ব্যয় ছিল ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকায়।

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প/ ঢাকা ট্রিবিউন

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (তড়িৎ) মো. আবু রায়হান সরকার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ‘আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির' এ প্রকল্পের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।” 

প্রকল্পের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, “২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দুইটি ইউনিটে প্রতিদিন ১০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা দরকার পড়বে। কয়লার জন্য পরিবেশ সম্মত কোল্ড ইয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। বড় ভ্যাসেল থেকে কয়লা নামিয়ে কোল্ড ইয়ার্ডে রাখা হবে। কোল্ড ইয়ার্ডটি পুরোপুরি আচ্ছাদিত অবস্থায় রাখা হবে। ফলে ঝড়-বৃষ্টিতে কয়লা ছড়িয়ে পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না।” 

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে কয়লা আমদানির জন্য তিনটি দেশকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক, অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া রয়েছে। আপাতত অস্ট্রেলিয়া বা ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে আসা হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিতরণের সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।”

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প/ ঢাকা ট্রিবিউন

প্রকল্পের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রকল্পের আওতায় গভীর চ্যানেল নির্মাণ, কয়লা ও তেল খালাসের জন্য জেটি নির্মাণ, কোল ইয়ার্ড ২৭৫ মিটার উচ্চতার চিমনি নির্মাণ, বন্দর ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভূমি উন্নয়ন, পল্লী বিদ্যুতায়ন, অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন বাস্তবায়ন, টাউনশিপ নির্মাণ, সার্কুলেটিং কুলিং ওয়াটার স্টেশন ও পানি শোধন ব্যবস্থা স্থাপন প্রভৃতি। এসব কাজ প্রায় শেষের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, “করোনাভাইরাস মহামারিতেও মহেশখালী মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ থেমে থাকেনি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। ফলে দেশের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

About

Popular Links