Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডাকাতি ঠেকাতে রাত জেগে পাহারায় টুঙ্গিপাড়ার জনগণ

উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রবেশমুখে লাঠি, বল্লমসহ নিয়মিত পাহারা দেওয়া হচ্ছে

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:২৪ পিএম

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় লোকজনের মধ্যে চুরি-ডাকাতির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ডাকাতি ও চুরি প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাত জেগে পাহারা দেওয়া শুরু করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা বলছেন, সম্প্রতি টুঙ্গিপাড়ার সাবেক পৌর মেয়রের বাড়িতে ডাকাতি হয়। এছাড়া, প্রায়ই নদীপথে এসে ডাকাতরা হানা দিচ্ছে এলাকায়। এসব ঘটনায় কয়েকজন চোর-ডাকাতকে আটক করা হলেও মানুষের মধ্যে ভয় কাটেনি। এ কারণে নিয়মিত এলাকাগুলোতে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাত থেকে পাহারা শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোপালপুরের প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রবেশমুখে লাঠি, বল্লমসহ নিয়মিত পাহারা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, নিয়ম করে চেকপোস্টও পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরিচিত বা সন্দেহজনক কাউকে দেখলে পুলিশের সহায়তা নিচ্ছেন গ্রামবাসী।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যাবাড়ি, জোয়ারিয়া, গোপালপুর বাজারসহ ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা ৫-১০ জনের একটি দল নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন। তাদের হাতে রয়েছে লাঠি, বাঁশ ও বল্লম। অপরিচিত কাউকে দেখলেই থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর না থামলে সাথে সাথে থানায় কল করে সে বিষয়ে জানাচ্ছেন। তখন রাতে টহলরত পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটকে দিচ্ছেন।

গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান লাল বাহাদুর বিশ্বাস বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় বেশকিছু চুরির ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মুনসুর ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রবেশদ্বারে রাত জেগে পাহারার জন্য গ্রামবাসীদের উদ্বুদ্ধ করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য পলাশ বিশ্বাস জানান, প্রতিদিন আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে পাহারার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। একজন টিম লিডারসহ ৫-১০ জনের একটি করে দল পাহারা দিচ্ছে। পাহারাদারদের কাছে থানার ওসি ও কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার নম্বর রয়েছে। কারও চলাফেরা সন্দেহজনক হলে তাকে আটক পুলিশে খবর দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আবুল মুনসুর ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা যায়- বাগেরহাট, খুলনা ও টাঙ্গাইল থেকে আসা কিছু দুর্বৃত্ত এই এলাকায় চুরি, ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। এদিকে, থানায় প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা কম। তাই মূলত জনগণকে সম্পৃক্ত করে পুলিশিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। চোর ঢুকতে না পারলে চুরিও হবে না। আর চোর ঢুকলেও বের হতে পারবে না। এছাড়া গ্রামবাসীর পাশাপাশি পুলিশের পেট্রোল টিমও নিয়মিত টহল দিচ্ছে। উপজেলার বাকি ইউনিয়নগুলোতেও এমন পাহারার ব্যবস্থা করা হবে। পুলিশ ও জনগণের যৌথ উদ্যোগে আমরা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসব।

About

Popular Links