Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কলেজ শাখার ‘গোপন কৌশলে’ বিপাকে একই প্রতিষ্ঠানের এসএসসি পাশ শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে অনলাইনে করা ওই আবেদনে মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে প্রথম পছন্দ রাখা হয়েছে

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৩৩ পিএম

এসএসসি পাশের পর কলেজে ভর্তি হতে নিজে আবেদন করার আগেই “আবেদন সফল হয়েছে” মেসেজ পান জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করা শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার। এতে চিন্তায় পড়ে যান তিনি। এজন্য নিজেও আবেদনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। জানতে পারেন, যে স্কুল থেকে পাশ করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখাকে প্রথম চয়েস দিয়ে আবেদন আগেই করা হয়েছে তার। নিজের অজান্তে এভাবে আবেদন হয়ে যাওয়ায় বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন এই শিক্ষার্থী। শুধু সাদিয়া নয় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন আরও ১২ শিক্ষার্থী।

ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে।

রবিবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা হলেন- প্রতিষ্ঠানের মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ আজিম হোসেন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী মাহফিল হোসেন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের তানিয়া আক্তার, মুসফিকুর রহমান, নুসরাত জাহান নাবিলা, মহিন হায়দার, আশিক হোসেন, আজিম হোসেন, শারমিন আক্তার মিম, ফাতেমা আক্তার।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ২০২২ সালে গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন তারা। গত ৮ ডিসেম্বর তাদের অনেকেই মেসেজ পান “আবেদন সফল হয়েছে” তাদের। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখেন ইতোমধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে (এইচএসসি) অনলাইনে ভর্তির আবেদন করা হয়েছে তাদের। এতে দেখা যায়, আবেদনে মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে প্রথম পছন্দে রাখা হয়েছে। সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি কলেজকেও পছন্দ তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে অনেকেই আর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কলেজে পড়তে আগ্রহী নন। এ কারণে বিষয়টিতে সুরাহা চান তারা।

শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, “আমি বা আমার পরিবার কেউই আবেদন করেনি। টাকাও জমা দেয়নি। কিন্তু গত ৮ ডিসেম্বর আবেদন সফল ও টাকা জমা হয়েছে জানিয়ে মোবাইল ফোনে মেসেজ আসে। সেখানে এই কলেজের নাম ফার্স্ট চয়েজ এবং পাশের কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়া উপজেলার একাধিক কলেজের নাম পরবর্তী পছন্দে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এটি দেখে আমি নিজের পছন্দমতো আবেদন করতে গিয়ে দেখি আমার আবেদন হচ্ছে না। আগের আবেদনও পরিবর্তন করা যাচ্ছে না। বিষয়টি আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সানোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে আবেদন করে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।”

শিক্ষার্থী আজিম হোসেন বলেন, “আমি এই কলেজে পড়তে চাই না। কিন্তু আমাকে না জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে। আমি এই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছি।”

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রধান শিক্ষক সানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “আমি কাউকে আবেদন করে দেইনি। অনেকেই আমাদের সহায়তা নিয়ে আবেদন করেছে। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থীকে আমাদের কলেজে আবেদন করার অনুরোধ করেছি।”

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, “শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে এভাবে আবেদন করা অপরাধ।”

বিষয়টিতে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

About

Popular Links