Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আওয়ামী লীগের আমল ছাড়া কবে গণতন্ত্র ছিল, প্রশ্ন শেখ হাসিনার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্রের অভাবটা কোথায়? নাকি যারা এই কথা বলেন তাদের ভালো লাগে যখন জরুরি অবস্থার সরকার হয়, সামরিক শাসক আসে, তাদের একটু দাম বাড়ে, খোশামোদি-তোষামোদি বাড়ে’

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪২ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “দেশে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আর কে সংরক্ষিত করতে পেরেছে? সেটাই আমি প্রশ্ন করি। এখানে গণতন্ত্রের অভাবটা কোথায়? নাকি যারা এই কথা বলেন তাদের ভালো লাগে যখন জরুরি অবস্থার সরকার হয়, সামরিক শাসক আসে, তাদের একটু দাম বাড়ে, খোশামোদি-তোষামোদি করে। ওইটুকু পাওয়ার লোভে? ব্যক্তি স্বার্থের জন্য তারা দেশের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিটাই ধ্বংস করতে চায়।”

শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা এখনো গণতন্ত্রের খোঁজ করেন, মনে হয় যেন দূরবীন দিয়ে ওনারা গণতন্ত্র দেখছেন। তাদের আমি জিজ্ঞেস করবো জাতির পিতার সাড়ে তিন বছর ও আওয়ামী লীগের আমল ছাড়া কবে গণতন্ত্র ছিল? ক্ষমতা তো ছিল সেননিবাসে বন্দি। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া সবই তো সেনানিবাসে বন্দি। সেনানিবাস থেকে চালানো হতো দেশ।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে যেসব দল সেনাশাসকের পকেট থেকে গঠিত হয়েছে। যেমন বিএনপি বা জাতীয় পার্টি। আপনারা দেখবেন সেখানে গণতন্ত্রের চর্চাটা কোথায়? দুর্ভাগ্যের বিষয় তারা আবার গণতন্ত্রের কথা বলে। যাদের জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে। তারা আবার আমাদের গণতন্ত্রের ছবক দেয়, পরামর্শ দেয়, গণতন্ত্র নাকি আবার প্রতিষ্ঠিত করবে।”

সুশীল সমাজের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, “আমাদের দেশের কিছু মানুষ যারা নিজেদের বুদ্ধিজীবী, জ্ঞানী-গুণী বলে পরিচয় দেয়। তাদের মুখেও শুনি গণতন্ত্র নাকি আনতে হবে দেশে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে সামরিক শাসকরা মার্শাল ল দিয়ে রাষ্ট্র চালিয়েছিল, সেটাকেই কি তারা গণতন্ত্র বলতে চান নাকি? ওইটাই কি গণতান্ত্রিক ধারা? তারা কি খোলাসা করে সেটা বলতে পারে? সেটা তো করে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ যখন থেকে এই দেশে সরকার গঠন করেছে, তখন থেকেই এই দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে।”

২০০৮ সালের নির্বাচনে ফলাফল কী সেই প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা সবার মনে রাখা উচিত সে সময়ে বিএনপি পেয়েছিল ৩০টা সিট। আর আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি পায়। ওই নির্বাচন নিয়ে তো কেউ প্রশ্ন করতে পারে না। তাহলে পরবর্তী ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কোন মুখে প্রশ্ন তুলে?”

এক এগারোর সরকার আন্তর্জাতিক চাপ ও দেশের মানুষের আন্দোলনের কারণে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে সবসময় একই প্যারালালে নিয়ে আসা হতো। কিন্তু আওয়ামী লীগের শক্তি যে দেশের জনগণ, এটা অনেকে ধারণাই করতে পারেনি।”

নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তিদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, “স্বচ্ছ ব্যালেট বাক্স, ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে কে? আওয়ামী লীগ সরকার। আমরা আসার পরে এবং আমাদের দলীয় প্রস্তাবে এগুলো ছিল। খালেদা জিয়া এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার তালিকা দিয়ে ২০০৬ সালে ভোট করতে চেয়েছিল। এটা কেউ ভুলে যান নাই। ভুয়া ভোটার তালিকা দিয়ে ভোট করা মানে হল ভোট চুরির চেষ্টা করা। আমার কাছে মনে হয় ওটাই তাদের কাছে গণতন্ত্র। জনগণের ভোট চুরি, অর্থ চুরি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এগুলো থাকলেই তাদের কাছে গণতন্ত্র।”

About

Popular Links