Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চলাচলের জন্য প্রস্তুত মেট্রোরেল

আগামী ডিসেম্বরে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা হবে

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৪৭ এএম

রাজধানীর যানজট নিরসনে বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল চালু হচ্ছে বুধবার (২৮ ডিসেম্বর)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই দিন মেট্রোরেল উদ্বোধন করবেন।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিদ্দিক বলেন, ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম শহর। এই রাজধানী শহরের যাত্রীরা মেট্রো রেলসহ সবচেয়ে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, মেট্রোরেলের ফলে জনদুর্ভোগ কমবে। এটি সহজে কম সময়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।

বর্তমানে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ স্টেশন, সিঁড়ি, এসকেলেটর, ভেন্ডিং মেশিন, টিকিট ব্যবস্থা, ফ্রেশ রুম, প্ল্যাটফর্ম, লিফট, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়েটিং রুমসহ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নির্মাণে কাজ করছে।

এদিকে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ট্রায়াল রান চলছে। পদ্মা সেতুর পর মেট্রোরেল চালুর মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসনের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, ১২টি ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হলেও ১০টিতে সরাসরি যাত্রী পরিবহন করা হবে। বাকি দুটি যেকোনো সময়ে চলাচলের জন্য ডিপোতে প্রস্তুত থাকবে। ট্রেন দুটি পরিচালনার কর্মকর্তারাও প্রস্তুত থাকবেন। আপাতত এই রুটে ধীরগতিতে ট্রেন চলবে।

তবে পূর্ণ গতিতে ট্রেন চলাচল শুরু হলে প্রতি সাড়ে তিন মিনিটে একটি করে ট্রেন চলবে। ট্রেনটি কোন স্টেশনে কতক্ষণ থাকবে তা এখনও ঠিক হয়নি।

প্রতিটি স্টেশনে, যাত্রীদের বোর্ডিং এবং নামা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেনটি অপেক্ষা করবে। প্রতিটি ট্রেন ২,৩০০ যাত্রী নিয়ে ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। তবে বাঁকযুক্ত এলাকায় গতি কম হবে।

সাধারণ মানুষ জানান, রাজধানীর প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ২৩ হাজার মানুষ বসবাস করছেন, যার আয়তন ৩০৬ বর্গকিলোমিটার। ফলে নগরীতে যানজট একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

তারা বলেন, তিনটি রাজনৈতিক দল স্বাধীনতার পর বেশ কিছু সময় দেশ শাসন করেছে। কোনো দলই জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে তেমন অগ্রগতি করতে পারেনি।

ফলে রাজধানীতে গড়ে উঠেছে দেশের প্রধান শিল্প প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর হাজার হাজার সাধারণ মানুষ জীবিকার তাগিদে গ্রাম থেকে ঢাকায় ছুটে আসে।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে নানা উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ সরকার।

প্রকল্পের বিবরণে জানা যায়, যানজট নিরসনে রাজধানীজুড়ে মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বিজয়ের মাসে (ডিসেম্বর) মেট্রোরেলের তিনটি অংশের একটি উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। দিয়াবাড়ি, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করা এখন সময়ের ব্যাপার।

মেট্রো রেল প্রতি ঘন্টায় ৬০ হাজার যাত্রী ও প্রতিদিন অর্ধ মিলিয়ন যাত্রী বহন করতে সক্ষম হবে এবং প্রতি চার মিনিটে প্রতিটি স্টেশনে একটি ট্রেন আসবে।

এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছিলেন, এলিভেটেড মেট্রোরেল চালু হলে সড়কের চাপ কমবে।

স্টেকহোল্ডাররা জানান, উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের ১১.৭৩ কিলোমিটার অংশটি আগামী ২৮ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হবে।

পরবর্তীতে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দ্বিতীয় সেকশন ও তৃতীয় সেকশন অর্থাৎ মতিঝিল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

তারা জানান, আগামী ডিসেম্বরে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা হবে।

ঢাকায় এলিভেটেড মেট্রোরেল-এ এখন পর্যন্ত পরিবহনের নতুন মডেল দিয়ে যাতায়াতের নতুন যুগে যাত্রা শুরু করতে চলছে বাংলাদেশ।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) মেট্রোরেল নির্মাণ করছে এবং প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে। জাইকা প্রকল্পের জন্য ১৯,৫০০ কোটি টাকা দিয়েছে।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০.১০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

About

Popular Links