Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মেট্রোরেলের টিকিট কাটবেন যেভাবে

দুই ধরনের টিকিট নিয়ে চলাচল করা যাবে মেট্রোরেলে

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫৭ পিএম

দেশের প্রথম মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বুধবার (২৮ ডিসেম্বর)। রাজধানীর গণপরিবহনে যুক্ত হওয়া প্রথম এই মেট্রোরেল আপাতত চলবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে টিকিট কেটে প্রথম যাত্রী হিসেবে মেট্রোরেলে উঠবেন। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা মেট্রোরেলে উঠবেন বলে নিরাপত্তার কারণে প্রথমদিন সাধারণ যাত্রীরা উঠতে পারবেন না মেট্রোতে। পরেরদিন, ২৯ ডিসেম্বর থেকে সাধারণ যাত্রীরা চলাচল করতে পারবেন।

মেট্রোরেল পরিচালনাকারী ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি (ডিএমটিসিএল) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক জানিয়েছেন,  প্রথমদিকে মেট্রোরেল সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা চলবে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে চলাচলের পথে কোথাও না থেমে বিরতিহীনভাবে চলবে।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী মেট্রোরেল পরিচালনার প্রথমদিকে মানুষকে অভ্যস্ত করার জন্য  বেশি যাত্রী নেওয়া হয় না। কারণ মানুষ টিকিট কাটার যে প্রক্রিয়া সেটাই সম্পন্ন  করতে পারে না। সেজন্য আমরা ১০ মিনিট পরপর ট্রেন চালাবো। প্রথমে আমরা দুই ঘণ্টা চালাবো। পরে যদি দেখি মানুষ অভ্যস্ত হচ্ছে না তখন আমরা চার ঘণ্টা চালাবো। আস্তে আস্তে তিন মাসের ভেতরে আমরা পূর্ণভাবে পরিচালনা করবো।

মেট্রোরেলের টিকিট কাটতে হবে যেভাবে

ডিএমটিসিএলের এমডি জানান, দুই ধরনের টিকিট নিয়ে চলাচল করা যাবে মেট্রোরেলে। প্রথমটি সিঙ্গেল জার্নির জন্য, দ্বিতীয়টি এমআরটি পাস (পারমানেন্ট টিকিট) পারমানেন্ট জার্নির জন্য।

সিঙ্গেল জার্নির জন্য যাত্রীকে প্রতিবার যাত্রার আগে টিকিট কাটতে হবে। যাত্রা শেষ করে টিকিট স্টেশনের স্বয়ংক্রিয় দরজায় জমা দিয়ে আসতে হবে। কারণ, এই টিকিট জমা না দিলে দরজা খুলবে না, ফলে যাত্রী স্টেশন থেকে বের হতে পারবে না। 



এমআরটি পাসের (পারমানেন্ট জার্নি) জন্য যাত্রীকে একবার একটি টিকিট কিনলেই হবে। টাকা শেষ হলে রিচার্জ করতে হবে। এই টিকিট যাত্রীকে স্টেশনে জমা দিতে হবে না। যাত্রীর কাছেই এই টিকিট থাকবে।

জানা গেছে, এ কার্ডের জন্য ২০০ টাকা লাগবে। পরে কার্ডে ২০০ টাকা  থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করা যাবে। 

মেট্রোরেলের প্রতিটা স্টেশনে এই দুই ধরনের টিকিট কাটতে পারবে যাত্রীরা। স্টেশনে থাকা টিকিট কাউন্টারের কর্মীদের কাছ থেকে এবং টিকিট বিক্রয় মেশিনের মাধ্যমে টিকিট কাটা যাবে।

টিকিট বিক্রয় মেশিনের মাধ্যমে টিকিট কাটতে হলে যাত্রীকে প্রথমে মনিটরে বাংলা অথবা ইংরেজি অপশন নির্বাচন করতে হবে। সিঙ্গেল ও পারমানেন্ট জার্নির জন্য টিকিট নির্বাচন করতে হবে।

এরপর আসবে যাত্রীদের গন্তব্যের তালিকা। কোন স্টেশনের কত ভাড়া সেই তালিকা দেওয়া থাকবে। সেখান থেকে যাত্রীকে তার গন্তব্য স্টেশন নির্বাচন করতে হবে। তারপর কয়টি টিকিট কাটবে তার আপশন আসবে। সিঙ্গেল জার্নির জন্য একজন যাত্রী একবার যাত্রায় পাঁচটির বেশি টিকিট কাটতে পারবে না। এরপর ওকে বাটনে চাপ দিলেই মেশিন টাকা চাইবে। টাকা দিলেই টিকিট বেরিয়ে আসবে। মেশিনে সর্বনিম্ন ২০ টাকা আর সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা প্রবেশ করানো যাবে।

মেট্রোরেল সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

ভাড়া 

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ দেশের প্রথম এ মেট্রোরেলের প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ঠিক করেছে ৫ টাকা। গত ৮ সেপ্টেম্বর ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা। 

উত্তরা দিয়াবাড়ি (উত্তরা নর্থ স্টেশন) থেকে আগারগাঁও স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া ঠিক করা হয়েছে ৬০ টাকা। উত্তরা নর্থ স্টেশন থেকে উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা সাউথ স্টেশনে যেতে সর্বনিম্ন ভাড়া ওই ২০ টাকাই দিতে হবে।

উত্তরা নর্থ থেকে পল্লবী ও মিরপুর-১১ স্টেশনের ভাড়া ৩০ টাকা, মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনের ভাড়া ৪০ টাকা এবং শেওড়াপাড়া স্টেশনের ভাড়া ৫০ টাকা।

আর পল্লবী থেকে মিরপুর-১১, মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনের ভাড়া একই, ২০ টাকা। পল্লবী থেকে শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও স্টেশনের ভাড়া ৩০ টাকা।

মেট্রোরেলের দ্বিতীয় ধাপ চালু হলে মিরপুর-১০ নম্বর থেকে ফার্মগেট যেতে গুনতে হবে ৩০ টাকা, আর কারওয়ান বাজার যেতে লাগবে ৪০ টাকা।

মিরপুর-১০ স্টেশন থেকে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া ৫০ টাকা, সচিবালয় ও মতিঝিল স্টেশনে যেতে লাগবে ৬০ টাকা। তবে মিরপুর-১০ থেকে কমলাপুর স্টেশনে যেতে লাগবে ৭০ টাকা ভাড়া।

তবে দীর্ঘমেয়াদী পাস নিলে ভাড়ায় ১০% ছাড়ের ব্যবস্থা নিতে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কোম্পানি ডিএমটিসিএলকে নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনা ভাড়া এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

কয়টি ট্রেন চলবে

প্রথমদিকে ১২টি ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডিএমটিসিএলের এমডি জানান, ১২টি ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হলেও ১০টিতে সরাসরি যাত্রী পরিবহন করা হবে। বাকি দুটি যেকোনো সময়ে চলাচলের জন্য ডিপোতে প্রস্তুত থাকবে। ট্রেন দুটি পরিচালনার কর্মকর্তারাও প্রস্তুত থাকবেন। যাত্রীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকটি মাথায় রেখে সবসময় ব্যাকআপ রাখতে হয়।

৫০টি বাস

মেট্রোরেলের যাত্রীদের জন্য উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশন ও আগারগাঁও থেকে মতিঝিল নিয়ে যাওয়ার জন্য থাকবে বিআরটিসির ৫০টি  বাস। এছাড়া   সিএনজি, বাস,  মিনিবাস,  মোটরসাইকেল ও অন্যান্য পরিবহনও মেট্রো স্টেশনের যাত্রী নিতে পারবে।

About

Popular Links