Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রস্রাবের নমুনায় ধরা পড়বে কালাজ্বর, দাবি ঢাবি গবেষকদের

৭৮টি দেশে কালাজ্বর রোগের সংক্রমণ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে। বাংলাদেশের ২৬টি জেলার ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ এ রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:০৫ পিএম

রক্ত কিংবা পরীক্ষার  জটিল প্রক্রিয়া এড়িয়ে সহজে “প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে” দ্রুত কালাজ্বর শনাক্তের একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ। বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মনজুরুল করিম ও তার গবেষক দল এই দাবি করেছেন।

একই সঙ্গে এটিকে কার্যকরী এবং নির্ভুল ও নিখুঁতভাবে পরজীবীবাহিত রোগ কালাজ্বর শনাক্তকরণের রোগীবান্ধব পদ্ধতি বলে দাবি করছে গবেষক দলটি।

সোমবার (২ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন প্রফেসর আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ মনজুরুল করিম।

অধ্যাপক মনজুরুল জানান, অস্থি মজ্জা, যকৃত, প্লীহা, লিম্ফ নোডের টিস্যু পরীক্ষার মত জটিল পদ্ধতি এড়িয়ে কিংবা রক্ত পরীক্ষার পরিবর্তে প্রস্রাব পরীক্ষা করে বেলে মাছির মাধ্যমে ছড়ানো কালাজ্বর শনাক্ত করা যাবে।

এ পদ্ধতিতে মূত্রের নমুনা ব্যবহার করে আরটি-পিসিআর প্রযুক্তির সাহায্যে মাত্র আধা ঘণ্টায় কালাজ্বর শনাক্ত করে তিন ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব বলে জানান অধ্যাপক মনজুরুল।

তিনি জানান, এর আগে এ রোগ নির্ণয়ে রক্তের ইমিউনোক্রোমাটোগ্রাফিক পরীক্ষা এবং অস্থি মজ্জা, যকৃত, প্লীহা, লিম্ফ নোড এর টিস্যু অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হত, যার প্রথমটির রোগ নির্ণয়ে নির্দিষ্টতা কম এবং অন্যটিতে টিস্যু সংগ্রহের সময় মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বিদ্যমান।

কালাজ্বর লিশম্যানিয়া ডনোভানি নামের এককোষী পরজীবীবাহিত একটি রোগ। বাংলাদেশে এটির বাহক স্ত্রী বেলেমাছির কামড়ে কালাজ্বরের পরজীবী মানুষের দেহে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে সংক্রামক রোগের তালিকাতেও রয়েছে এটি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশসহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে এটি উপেক্ষিত একটি রোগ; যার মধ্যে লিশম্যানিয়াসিস তিনটি রূপের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতি। কালাজ্বরের সংক্রমণ এতটাই গুরুতর ও মারাত্মক যে, যথাসময়ে চিকিৎসা করানো না হলে এ রোগে ৯৫% পর্যন্ত মৃত্যু হয়ে থাকে। বাংলাদেশে একমাত্র লিশম্যানিয়া ডনোভানি পরজীবীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

অধ্যাপক মনজুরুল বলেন, ৭৮টি দেশে এ রোগের সংক্রমণ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে।

বাংলাদেশের ২৬টি জেলার ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ এ রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ রোগের ওষুধ থাকলেও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটা জটিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে এ রোগ নির্মূলের পরিকল্পনা নিয়েছে। রোগ নির্মূলের জন্য জরুরি সঠিক শনাক্তকরণ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে করা কালাজ্বরের “মলিকিউলার ডায়াগনস্টিক” পদ্ধতিতে ক্লিনিকাল নমুনা হিসেবে প্রস্রাব ব্যবহার করার দৃষ্টান্ত ভারতীয় উপমহাদেশে এই প্রথম।

গবেষক দলের প্রধান বলেন, “নমুনা হিসাবে প্রস্রাব ব্যবহার করার দৃষ্টান্ত ভারতীয় উপমহাদেশে এটি প্রথম। গতানুগতিকভাবে অনুসরণ করা বোন ম্যারো, স্প্লিন এসপিরেট কিংবা লিভার বায়োপসির পরিবর্তে ‘মূত্র' নমুনা হিসেবে ব্যবহার করে গবেষক দল এই মলিকিউলার ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এর ফলাফল বিশ্বখ্যাত জার্নাল PLOS Global Public Health-এ প্রকাশিত হয়েছে। দেশ এবং দেশের বাইরে কালাজ্বর নির্মূলে এই গবেষণা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।”

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বলেন, “নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্ভাবন। গবেষকদের যে কাজ তারা এটি সম্পন্ন করেছেন। ভবিষ্যতে এই জিনিস যেন প্রান্তিক পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে পৌঁছে যায় সেটি দেখা প্রশাসনের দায়িত্ব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সেই কাজটি  করবে।”

About

Popular Links