Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গোপালগঞ্জে গাছে বেঁধে গায়ে আগুন দেওয়া সেই নারীর মৃত্যু

এই ঘটনায় নিহতের দেবর অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য লিয়াকত মোল্লাকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:২৫ পিএম

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছে বেঁধে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া নারী সুফিয়া বেগম (৫০) মারা গেছেন। এই ঘটনায় তার দেবর লিয়াকত মোল্লাকে (৫০) গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। অভিযুক্ত লিয়াকত একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য। 

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, বুধবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ ওই নারীর মৃত্যু হয়।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের বাঘঝাপা গ্রামের ইউসুফ আলী মোল্লার স্ত্রী সুফিয়া বেগমের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে সুফিয়া বেগমের ভাই আখতার হোসেন বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। মামলায় লিয়াকত মোল্লাসহ আরও দুজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়।

ওসি ফিরোজ আলম বলেন, “মঙ্গলবার এ মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাকে গোপালগঞ্জের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।”


আরও পড়ুন- গাছে বেঁধে গৃহবধূর শরীরে আগুন


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের বাঘঝাপা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বড় ভাইয়ের স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে গাছের সঙ্গে বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন লিয়াকত মোল্লা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কাশিয়ানী ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগুনে ওই নারীর   শরীরের ৯০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল।

গ্রামের দুই বাসিন্দা জানান, ইউসুফ আলী মোল্লার সঙ্গে তার ছোট ভাই লিয়াকত মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। লিয়াকাত আগেই তার প্রাপ্য অংশ বিক্রি করে দেন। ফের সেই সম্পত্তির দাবি তোলায় দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। 

একই বিরোধের জেরে এর আগেও লিয়াকত মোল্লা একদিন সুফি বেগমের মাথার চুল কেটে দিয়েছিলেন। সেবার গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টির মিমাংসা করে দিয়েছিলেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ সুফিয়া বেগম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “মঙ্গলবার সকালে লিয়াকত মোল্লা ও আমার আরেক দেবর আব্দুর রহমানের ছেলে সোহেল বাড়িতে আসে। এ সময় আমি বাড়িতে একা ছিলাম। তারা আমাকে বসতঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে এবং উঠানের পেয়ারা গাছের সঙ্গে আমার হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে আমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। আমি চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে।”

About

Popular Links