Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শরণখোলার লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ, গ্রামবাসী আতঙ্কে

জনসাধারণকে সতর্ক ও সচেতন করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:৫৫ পিএম

সুন্দরবন–সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার একটি গ্রামে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ পাওয়া গেছে। প্রায় দুই বছর পর এ দৃশ্য দেখল স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীর ধারণা, “ফের লোকালয়ে বাঘ ঢুকেছে।”

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) সকালে সোনাতলা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পায় গ্রামবাসী।

এতে শরণখোলার সোনাতলা গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এরপর জনসাধারণকে সতর্ক ও সচেতন করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

বন সুরক্ষায় নিয়োজিত কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপের (সিপিজি) সহ-সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম সাচ্চু জানান, “বুধবার রাতে শুকিয়ে যাওয়া ভোলা নদী পাড় হয়ে সুন্দরবন থেকে একটি বাঘ সোনাতলা গ্রামে ঢুকে পড়ে।”

“বাঘটি ওই গ্রামের আবু ভদ্দর, আসলাম ভদ্দর, আ. মালেক, হারুন হাওলাদারের বাড়ির পুকুর পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছে।”

“সকালে গ্রামবাসী ওইসব জায়গায় বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়। পরে এলাকাবাসী বন বিভাগকে খবর দেয়।”

বন বিভাগের ভোলা টহল ফাঁড়ির বনরক্ষী আ. রহিম জানান, “গ্রামে বাঘ ঢুকে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান।”

“তবে ধারণা করা হচ্ছে বাঘটি রাতেই আবার বনে ফিরে গেছে।”

“এ ঘটনায় ১২ জানুয়ারি সকাল থেকে গ্রামবাসীদের সাবধানে চলাচল করতে মাইকিং করা হয়।”

শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, “ভোলা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের বন্য প্রাণীরা সহজেই লোকালয়ে ঢুকতে পারে। সুন্দরবনের বাঘটি তাই পথ ভুলে হয়তো লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল। বাঘটি যাতে আর লোকালয়ে না আসতে পারে সেজন্য বন বিভাগের পাশাপাশি বন সুরক্ষায় নিয়োজিত সদস্যরা ওই গ্রামে টহল দিচ্ছে।”

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, “বাঘের বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করতে বনরক্ষীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।”

এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি রাতে সুন্দরবন থেকে একটি বাঘ সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে ঢুকেছিল। ওই সময় গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফসলের মাঠ, মাছের ঘের, নদীর চরে বাঘের পায়ের অসংখ্য ছাপ ছিল।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারণী টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন নদী সাঁতরে রসুলপুর বাজারের পাশে আলমগীর তালুকদারের বাড়ির সামনে দিয়ে বাঘটি গ্রামে ঢুকেছিল বলে সে সময়ে বন বিভাগ ধারণা করেছিল।

এছাড়া ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর আরও একটি বাঘ ভরাট হওয়া ভোলা নদী পার হয়ে শরণখোলা উপজেলার পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে ঢুকেছিল।

About

Popular Links