Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দেশে প্রতি ৫ জনে একজন ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপে

ক্রমবর্ধমান উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকি মোকাবিলায় সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের বিদ্যমান ওষুধ তালিকায় উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৩৭ পিএম

দেশে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি ৫ জনের ১ জন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। উচ্চ রক্তচাপের কারণে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ, বিশেষত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সিলেটের সঞ্চয়িতা ট্রেনিং সেন্টারে “হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক এক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচ এআই) এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ কর্মশালাটির আয়োজন করে। 

কর্মশালায় সিলেট মহানগরীর প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন মিডিয়ার ২৬ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

সম্প্রতি সিলেট জেলার ৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকে সরকারিভাবে বিনামূল্যে রোগীদের উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ দেয়া হচ্ছে। তবে ক্রমবর্ধমান উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকি মোকাবিলায় সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের বিদ্যমান ওষুধ তালিকায় উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি ওষুধ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এ খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

বক্তারা বলেন, সিলেটসহ সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে এর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের বিদ্যমান ওষুধ তালিকায় উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধক ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা খুবই জরুরি। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে।  বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে, ২০১৮ এর তথ্য অনুযায়ী উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের মধ্যে নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে মাত্র ১৪%।

গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ স্টাডি, ২০১৯ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মৃত্যু এবং পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণের একটি উচ্চ রক্তচাপ। দেশে উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে প্রশিক্ষিত কর্মী রয়েছে মাত্র ২৯% স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে।

উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যু ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের কারণে মারা যায়, যা সকল সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নার থেকে রোগীদের এক মাসের ওষুধ দেওয়া হয়। রোগীদের একবারে দুই-তিন মাস ওষুধ দিলে হাসপাতালে রোগীদের চাপ কমবে।

অস্বাস্থ্যকর ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের বর্ধিত ব্যবহার, অপর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম, তামাক ব্যবহার, জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধ সংখ্যা এবং অন্যান্য আর্থ-সামাজিক এবং জীবনধারার কারণগুলির কারণে দেশে উচ্চ রক্তচাপের বোঝা আগামী বছরগুলোতে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। 

কর্মশালার সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে অল্প খরচে অনেকের জীবন বাঁচানো এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে জানান বক্তারা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রুহুল কুদ্দুস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. স্বপ্নীল সৌরভ রায় প্রমুখ।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস।

সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, হাইপারটেনশন কন্ট্রোল প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. শামীম জুবায়ের এবং প্রজ্ঞার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার।

About

Popular Links