Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘বই লিখছি, জীবিত অবস্থায় প্রকাশ হলে আমাকে মেরে ফেলবে’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ২০১৪ সালের ২ মার্চ প্রথম মেয়াদে উপাচার্য পদে নিয়োগ পান

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০৯:০৭ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য থাকাকালীন নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সবকিছু নিয়ে বই লেখা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক ভিসি ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। তবে জীবিত অবস্থায় বইটি প্রকাশ পেলে ছেলেসহ তাকে মেরে ফেলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের ভোট দিতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

বর্তমান প্রশাসনকে ইঙ্গিত করে অধ্যাপক ফারজানা বলেন, “ইতিহাস অন্য রকম। এখন আমি সেই ইতিহাস লিখছি। আমার জীবদ্দশায় আসবে না। লিখে এমন জায়গায় বস্তাবন্দি করে রাখবো যে কেউ পাবে না। আমার জীবদ্দশায় প্রকাশ পেলে এরা আমাকে তো মারবেই, আমার ছেলেকে শুদ্ধ মারবে।”

দেশের প্রথম এ নারী উপাচার্য আক্ষেপ করে বলেন, “আমার সময় এত আন্দোলন কেন হয়েছে? এখন একবেলা আন্দোলন হয় না। প্রো-ভিসিরাও আমাকে প্রোটেক্ট করেনি, প্রক্টরও আমাকে প্রোটেক্ট করেনি৷ আমি কি এতোই খারাপ ছিলাম?”

সমাবর্তনের বিষয়ে সাবেক এই উপাচার্য আক্ষেপ করে বলেন, “সমাবর্তন প্রতি বছর হওয়া উচিত। আমি এর আগেও এটা বলেছি। কিন্তু আমার সময় বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ ছিল। আমার সময় এত আন্দোলন কেন হয়েছে? এটার কারণ সাংবাদিকেরা বের করতে পারলে তারা সার্থক হবে। এখন একবেলা আন্দোলন হয় না। তখন প্রো-ভিসিরাও আমাকে প্রোটেক্ট করেনি৷ আমি কী এতোই খারাপ ছিলাম?”

তিনি বলেন, “প্রক্টর আমাকে সেসময় রক্ষা করেনি কিন্তু বর্তমান প্রশাসনকে রক্ষা করে যাচ্ছেন। বর্তমান প্রশাসন কীভাবে এসেছিল? প্রো-ভিসি কীভাবে হয়েছেন তিনি। তিনি ভিসি হওয়ার সময় আমি কী তার জন্য সুপারিশ করিনি?”

তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ব্যাপারে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, “দুদক তদন্ত করেছে না কে করেছে? কোন সে দিল আফরোজা বেগম (ইউজিসি সদস্য) কী বলেছে—সেসব আমার কানে এসেছে। উনি তো আমাদের সবকিছুতেই বাধা দেন। দর্শন বিভাগে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগের বোর্ডটাকে তিনি বাধা দিয়েছিলেন নিয়মকানুন জানেন না বলে। আমরা হাইকোর্টে আপিল করে সেটা ছাড় পাই। সবসময় যে ইউজিসির মেম্বাররা আমাদের চেয়ে বেশি জানেন এটা নয়। তারা এখানে পড়ান না। পাবলিক ইউনিভার্সিটির স্ট্যাটিউটগুলোর কিছু জানেনই না।”

উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ঈদ সালামির বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এই উপাচার্য বলেন, “যে টাকা ছাড় হয়নি সেটা আমি কীভাবে খরচ করে ফেললাম? এটা বলা ঠিক না। এটা যদি আমার সময়ে কেউ করে থাকে— কাউকে খুশি করতে এর দায়-দায়িত্ব আমি নিবো না।”

শিক্ষা বিভাগের অডিট নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অডিটের প্রশ্নটিই অবান্তর। এর উত্তর তারা যেভাবে দিয়েছে আমি মনে করি সেটাই জাস্টিফাইড।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দুইটি অংশ এক হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “দু”টি অংশ ভেতরে ভেতরে এক ছিল। এখন প্রকাশ্যে এক হওয়ার অনুমতি পেয়েছে; অনেক সময় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা হয়তো অনুমতি দেন না বলে এক হতে পারে না। কিন্তু আদর্শগত দিক থেকে তো আগে থেকেই এক ছিল। এখন একটা সুযোগ হয়েছে এক হওয়ার—এটা ভালো।”

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ২০১৪ সালের ২ মার্চ প্রথম মেয়াদে উপাচার্য পদে নিয়োগ পান। প্রথম মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগেই ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হন তিনি। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনা ও ভিসিবিরোধী আন্দোলনের মুখে পড়েন তিনি। গত বছরের ১ মার্চ তার মেয়াদ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

About

Popular Links