Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মাছ-মাংস দুরূহ, সবজির ভারও টের পায় না কবজি

ক্রেতারা বলছেন, বছর তিনেক আগেও ৫০০ টাকায় মোটামুটি সপ্তাহের বাজার করা যেত। এখন সেটা হাজারে ঠেকেছে  

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:৪৫ পিএম

নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন কম আয়ের মানুষেরা। তারা বলছেন, দু-চার পদের সবজি কিনতেই খরচ হচ্ছে ৫০০ টাকার ওপরে, তা-ও সপ্তাহ পার হয় না। মাছ-মাংস এখন ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী মিরপুরের কয়েকটি বাজারে দেখা যায়, শীতের মৌসুমেও যেকোনো প্রকারের সবজি কিনতেও ৫০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। মাছ কিনতে লাগছে সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা, কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির মাংসে বেড়েছে ৫০-৬০ টাকা। গরু-খাসির মাংসের দোকান ক্রেতারা এড়িয়ে চলছেন।

সবজির বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি টমেটো ২০ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৪০, মুলা ৩০, শিম ৩০ থেকে ৫০, কাঁচা পেঁপে ৪০, মিষ্টিকুমড়া ৪০, শালগম ৩০, করলা ১০০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা; ফুলকপি ২০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ২৫ টাকা পিস ও লাউ ৭০ টাকা পিস। প্রতি কেজি আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ২৫, রসুন মানভেদে ১০০ থেকে ১২০ ও আদা ৯০ টাকা।

বাজারে শাকের দামও বেড়েছে, আবার কমেছে পরিমাণ। চিকন লালশাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা, পুঁইশাক ২৫, লাউশাক ৩০ ও ডাঁটাশাক ১৫ টাকা আঁটি।

বাজারে ব্রয়লার মুরগির ও তার ডিম এখন আলোচনার তুঙ্গে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে এখন ২১০ টাকা। লাল ব্রয়লার ২৭০ টাকা কেজি, দেশি মুরগি ৪৫০ থেকে ৫২০ টাকা। গরুর মাংস কেজি প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে এখন ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা। মুরগির ডিমের বাজারেও অস্থিরতা; দিনের ব্যবধানে দাম বাড়ে। এখন ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ টাকা।

মাংসের চাহিদা মাছে মেটানোও দায় হয়েছে ক্রেতাদের জন্য। মাছ কিনতে তাদের নিম্নে কেজি প্রতি ৩০০ টাকা করে গুণতে হয়। কেজি প্রতি তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কাতলা ও রুই ২৫০ থেকে ৩৪০, কালবাউশ ২৫০, পোয়া ১২০ থেকে ১৫০, বড় বোয়াল ১০০০, সাগরের সুরমা ২০০, ইলিশ ৭০০ গ্রাম আকারভেদে ৫০০ থেকে ৬০০, টাকি ৩০০, শোল ৫০০ থেকে ৬০০, বড় চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০; টেংরা ছোট ২৪০, বড় ৬০০; বাইম  ৪৫০ থেকে ৫০০ ও কাচকি ২৪০ টাকা।

বাজারে সবচেয়ে ভিড় কম মাংসের দোকানে। দীর্ঘদিন থেকেই প্রতি কেজি গরু বা মহিষের মাংসের কেজি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের খরচ মেটাতে কৌশলী হচ্ছেন ক্রেতারা। তারা টাকা গুনে বাজার করছেন। মিরপুর ১১ নম্বরে বাজারে আসা বকুল আক্তার নামে এক ক্রেতা বলেন, “বাজারে সব জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। আমরা বড়রা বুঝলেও ঘরের বাচ্চারা তো আর বোঝে না। তারা প্রতিদিনই ভালো-মন্দ খেতে চায়। তা-ও সবদিক বিবেচনা করেই বাজার করতে হয়।”

হাজার টাকা ছাড়া বাজারে আসা যায় না মন্তব্য করে ক্রেতা আরাফাত হোসেন বলেন, “বছর তিনেক আগেও ৫০০ টাকায় মোটামুটি সপ্তাহের বাজার করা যেত। এখন সেটা হাজারে ঠেকেছে। তাও সপ্তাহ পার হয় না। মাসের শুরুতে এক বস্তা চাল কিনে রাখি বলে সারা মাস টুকিটাকি বাজার-সদাই করে পার করি। এখন যেভাবে সবকিছুর দাম বাড়ছে, পরে কী হয় বলা মুশকিল।”

About

Popular Links