Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: আগামী বছরের মার্চে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ

২০১৯ সালে ১০ হাজার ৭৮৯ জন ‘স্বাধীনতাবিরোধীর’ তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নাম আসায় ক্ষোভ আর সমালোচনার মুখে তা সংশোধনের জন্য স্থগিত করা হয়

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৫১ পিএম

সারাদেশের রাজাকারের তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেছেন, “রাজাকারের তালিকা প্রকাশের জন্য নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। আগামী বছরের মার্চ মাসে এটি প্রকাশিত হবে।”

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীতে বাগমারা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির চলমান পদযাত্রার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “পদযাত্রা করে সরকার পতন করা যায়, এমন কোনো নজির নেই। আন্দোলন করে কোনো লাভ হবে না।”

আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে- এমন ইঙ্গিত দিয়ে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই সময়ে বিরোধী পক্ষ বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত থাকবে। সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।”

আ ক ম মোজাম্মেল হক বিএনপি নেতাদের পাকিস্তান প্রীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “তারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অবান্তর কথা বলেন।”

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও গয়েশ্বর রায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারা বলেছেন এই দেশে নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয়েছে।” তাদের পাকিস্তানে চলে যেতে বলেন তিনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হকের বিরুদ্ধে ইসমাইল হোসেন গাইন নামের এক রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য ডিও লেটার দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়। 

এর জবাবে তিনি বলেন, “অনেক সময়ে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ডিও লেটার দেওয়া হয়। যদি এমন হয়, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বাগমারা পৌঁছে শুরুতে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন শেষে বাগমারা নিউ মার্কেট মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মনসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের বিজয় দিবসের আগের দিন সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী ১০ হাজার ৭৮৯ জন “স্বাধীনতাবিরোধীর” তালিকা প্রকাশ করেন। ওই তালিকায় গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নাম আসায় ক্ষোভ আর সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সংশোধনের জন্য ওই তালিকা স্থগিত করা হয়।

পরে রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা তৈরির সুযোগ রেখে ২০২২ সালের ২৯ আগস্ট “জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন” সংসদে পাশ হয়।

সেখানে বলা হয়, “১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ হইতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাহারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর সদস্য হিসাবে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বা আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসাবে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বা আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসাবে সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থাকিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করিয়াছেন বা খুন, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগের অপরাধমূলক ঘৃণ্য কার্যকলাপ দ্বারা নিরীহ মানুষকে হত্যার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করিয়াছেন অথবা একক বা যৌথ বা দলীয় সিদ্ধান্তক্রমে প্রত্যক্ষভাবে, সক্রিয়ভাবে বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করিয়াছেন তাহাদের তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ প্রেরণ করবে।”

About

Popular Links