Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছোট ভাই নিচে দাঁড়ানো, ১১ তলা থেকে লাফ দেন রাজিব

সজিব পিরিচ বলেন, আমার চোখের সামনেই ১১ তলার বেলকুনি থেকে লাফিয়ে পড়ে আমার ভাই রাজিব পিরিচ। তিনি বাঁচতে চেয়েছিলেন। নিচে পড়ার সময় আমি তাকে দেখছিলাম কিন্তু কিছুই করার ছিল না

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৭:৩৩ পিএম

রাজধানীর গুলশানে রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বহুতল একটি ভবনে আগুন লাগে। ওই ভবনের এক ফ্ল্যাটে বাবুর্চির কাজ করতেন রাজিব পিরিচ। গতকাল আগুন লাগার পরপরেই ছোটভাই সজিব পিরিচকে ফোন দেন তিনি। তাদের বাড়ি থেকে ওই ভবনের দূরত্ব ৩০ মিনিটের পথ। ভাইয়ের বিপদের কথা শুনে ফোনে কথা বলতে বলতেই রওনা করেন সজিব।

তিনি যখন গুলশানের ওই ভবনের সামনে পৌঁছান ততক্ষণে তার বড়ভাই রাজিব ১১ তলা থেকে লাফিয়ে বাঁচার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু সে কথা জানাননি পরিবারের কাউকে। ছোটভাইকে শুধু কোনো অঘটন ঘটলে পরিবারকে দেখে রাখার দায়িত্বটুকু দেন।

সজিব যখন ওই ভবনের সামনে পৌঁছান তখনো রাজিব ১১ তলাতেই ছিলেন। এরপরে আর যোগাযোগ হয়নি। সজিবের চোখের সামনেই ১১ তলা থেকে একজনকে লাফাতে দেখেন। পরে যখন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাফিয়ে পড়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন তখন দেখতে পান তার ভাই রাজিবই বাঁচতে চেয়ে এমন মরণপণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু বাঁচতে চেয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

রাজিবের বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পাওরান গ্রামে। তার বাবা বানাথ পিরিচ কৃষিকাজ করেন। ছোটভাই সজিব অটোরিকশা চালান।

সজিব পিরিচ জানান, তার ভাই রাজিব পিরিচ ওই ভবনে বাবুর্চির কাজ করতেন। রাজিবের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। ভাইয়ের এমন আকস্মিক চলে যাওয়ায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে তার মাথার ওপর। এই পুরো পরিবারের দায়-দায়িত্ব সামলাতে হবে তাকে। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে সেই দায়িত্ব তিনি পালন করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

ওই ভবনের সামনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার চোখের সামনেই ১১ তলার বেলকুনি থেকে লাফিয়ে পড়ে আমার ভাই রাজিব পিরিচ। তিনি বাঁচতে চেয়েছিলেন। নিচে পড়ার সময় আমি তাকে দেখছিলাম কিন্তু কিছুই করার ছিল না। আগুন লাগার পর পরই ভাইটি আমাকে ফোন করে আগুন লাগার কথা বলেছিলেন। তখন সন্ধ্যা আনুমাণিক সাতটা বাজে। আমার গ্রামের বাড়ি থেকে যানবাহনে ভবনটিতে যেতে মাত্র ত্রিশ মিনিট সময় লাগে। আমি খবর শোনামাত্রই সেখানে চলে গিয়েছিলাম।”

রাজিবদের এলাকার ইউপি সদস্য মাসুদ পারভেজ বলেন, “রাজিব খুবই নিরীহ প্রকৃতির একটা ছেলে ছিল। তার রান্নার সুনাম ছিল। পড়াশোনা বেশি করতে পারেনি। তবে কিছু একটা করার অদম্য শক্তি ছিল তার।”

সোমবার দুপুর ২টার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী খ্রিস্টান মিশনে তাকে সমাহিত করা হয়।

গতকালের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট কাজ করে। তারা প্রায় ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

About

Popular Links