Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দেশে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ

ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশন বলছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের প্রকোপ ছিল ৮.৪%, যা বিশ্বব্যাপী ছিল ৬.৫%

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৩, ০৬:১৪ পিএম

দিন দিন দেশে বেড়ে চলেছে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা। সামাজিক সচেতনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচারণা সত্বেও এটি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

তথ্য বলছে, ২০২১ সাল পর্যন্ত ২০-৭৯ বছর বয়সী ৮.৪ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ধীরে ধীরে এটি দেশের বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে উঠে আসছে।

ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশন বলছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের প্রকোপ ছিল ৮.৪%, যা বিশ্বব্যাপী ছিল ৬.৫%।

বাংলাদেশে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ডায়াবেটিস। এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ ও অন্ধত্বসহ অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গেই যুক্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যতালিকা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, বার্ধক্য, নগরায়ন ও জনসংখ্যার কারণে সাম্প্রতিক বছরে ডায়াবেটিসের প্রকোপ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যসহ স্বাস্থ্যকর জীবনধারার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সাধারণ পরিবর্তনগুলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার মানকে ভালো করতে পারে।

শহরে ডায়াবেটিস বেশি

বিএমসি পাবলিক হেলথের একটি সমীক্ষা বলছে, দেশের গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরে ডায়াবেটিস বেশি দেখা যায়। যেখানে প্রাদুর্ভাবের হারের তুলনা ১১.৪% ও ৫.৭%।

অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারা ডায়াবেটিসকে বাড়িয়ে তুলতে পারে ও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নগরায়নের কারণে বর্তমানে মানুষেরা অলস সময় কাটায়, ক্যালোরি, চর্বি এবং চিনিতে ভরপুর প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়। যা ডায়াবেটিসকে বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করে।

ভুল চিকিৎসা

বাংলাদেশে আক্রান্ত অনেকে জানেনই না তার ডায়াবেটিস রয়েছে। এমনকি সেটি শনাক্তেও সঠিক উপায় নেই।

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ অ্যান্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ৬১.২% ব্যক্তি তাদের রোগ সম্পর্কে জানতেন। এরমধ্যে মাত্র ৩৮.৮% চিকিত্সা নিয়েছেন।

এছাড়াও সঠিক স্বাস্থ্যসেবাদানকারীর অভাব, ডায়াবেটিস শিক্ষা ও সহায়তায় সীমাবদ্ধতার কারণে আক্রান্তদের পর্যাপ্তভাবে চিকিৎসা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে, গ্রামীণ অঞ্চলে অনেক ডায়াবেটিস রোগীর রোগ নির্ণয় করা হয় না।

ডায়াবেটিস রিসার্চ অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস জার্নাল বলছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বাংলাদেশিদের মাত্র ১১% ডায়াবেটিস সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েছেন।

ডায়াবেটিস  কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত একটি কৌশলের প্রয়োজনীয়তা বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলোরা শারমিন বলেন, ডায়াবেটিস কার্যকরভাবে প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনধারার আচরণ ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ব্যায়াম। এগুলো ছোট ছোটও হতে পারে। যেমন, সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ মিনিট হাঁটা। এটি রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া পুষ্টিকর খাবার যেমন ফল, শাকসবজি, শস্য, চর্বিহীন মাংস ও স্বাস্থ্যকর চর্বি যেমন ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও অন্যান্য খাবারের দিকেও জোর দেন এই বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, খাদ্যের মাধ্যমে ডায়াবেটিস পরিচালনার মূল চাবিকাঠি হলো কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়ার পরিবর্তে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ সুষম ও আনুপাতিকভাবে নিশ্চিত করা। সঠিকভাবে ভারসাম্যযুক্ত কার্বোহাইড্রেট শক্তি সরবরাহ করতে ও রক্তে স্বাস্থ্যকর শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে পারে।

About

Popular Links