Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আহমদিয়াদের ওপর হামলা: কী ঘটেছিল পঞ্চগড়ে?

সুন্নি মুসলিমদের অনেকে আহমদিয়াদের ‘অমুসলিম’ মনে করেন। সুন্নি মতাদর্শে বিশ্বাসী বেশ কয়েকটি সংগঠন অনেক দিন থেকেই আহমদিয়াদের সাংবিধানিকভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩, ০৬:০৫ পিএম

বাংলাদেশের পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বাৎসরিক ধর্মীয় জমায়েত “সালানা জলসা” ঘিরে সহিংসতায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ মার্চ) থেকে তিন দিনব্যাপী “সালানা জলসা” অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই স্থানীয় মুসল্লিরা ওই অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ ও মুসল্লিদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

আহমদিয়া সম্প্রদায়কে “কাদিয়ানী” বলা হয়। ভারতের পাঞ্জাবের কাদিয়ান থেকে এই দর্শনের জন্ম বলে অনেকে এই সম্প্রদায়ের লোকজনকে কাদিয়ানী বলেন। সুন্নি মুসলিমদের অনেকে আহমদিয়াদের “অমুসলিম” মনে করেন। সুন্নি মতাদর্শে বিশ্বাসী বেশ কয়েকটি সংগঠন অনেক দিন থেকেই আহমদিয়াদের সাংবিধানিকভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে।

জানা গেছে, পঞ্চগড়ের দুটি গ্রামে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করেন। গত কয়েক বছর ধরে তারা রাজধানীর বকশীবাজারের পরিবর্তে পঞ্চগড়ের আহমদনগরে “সালানা জলসা” করে আসছিলেন। গত বছরও পুলিশ পাহারায় ওই অনুষ্ঠান করেন তারা।

২০২২ সালে পঞ্চগড়ে “সালানা জলসা” আয়োজন করা হয়েছিল। তখনও একাধিক সুন্নি মতাদর্শের সংগঠন আপত্তি তুলেছিল। তবে প্রশাসনের নিরাপত্তায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তবে ২০১৯ সালে পঞ্চগড়ে ওই জলসা আয়োজনের সময় আহমদিয়াদের ওপর হামলা চালানো হয়। সেসময় তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং অগ্নি সংযোগের চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। 

এবারের জলসা আয়োজনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে থেকেই কয়েকটি সুন্নি সংগঠন জলসা করতে না দেওয়ার দাবি করে আসছিল। এই দাবিতে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধও করেছিল তারা।

গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর এসব সংগঠনের ব্যানারে শত শত লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে এবং শহরের সড়কগুলোয় বাঁশ ফেলে বন্ধ করে দেয়। একই সময় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়।

বিক্ষোভকারীদের পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা শহরের ধাক্কামারা এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের একটি কার্যালয়ও পুড়িয়ে দেয়। 

পুলিশ বলছে, গতকাল ৩০ থেকে ৪০টির মতো বাড়িঘরে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে দুজন নিহত ও পুলিশের সদস্যসহ ৩০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের ঘটনার পরে শুক্রবার রাতেই জলসাটি বাতিল করা হয়েছে। আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা কাজ করছে। আবার হামলার ভয়ে অনেকে বাড়িতে যাচ্ছেন না। তাছাড়া বাড়িঘর ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়ার কারণে অনেকের যাওয়ার জায়গাও নেই।

পুলিশ জানিয়েছে, সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এখনো উত্তেজনা রয়েছে।

পঞ্চগড়ের জেলা পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের জলসা গতকাল থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে আসা বেশিরভাগ মানুষ চলে গেছে। আমাদের পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।”

About

Popular Links