Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রধানমন্ত্রী: দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, কেউ কিছু করতে পারবে না। হয়তো সাময়িক কিছু একটা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৩, ০৬:৩১ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। হয়তো সাময়িক কিছু একটা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।”

সোমবার (১৩ মার্চ) বিকেলে গণভবনে কাতার সফর বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার ব্যাপারে অনেকের কাছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকে। অনেক সময় এই সুযোগ পেয়েও গ্রহণ করে না। যেহেতু করোনা দেখা দিল, তখন একটু দ্বিধাদ্বন্দ্ব অনেকের ছিল যে এটা এখনই গ্রহণ করা সম্ভব কি না। আমি কিন্তু বলেছি, আমরা পারব। যে কারণে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটা অনুমোদিত হয়ে গেছে। কাজেই আমরা সেই সুযোগ নিয়েছি।”

এখন দেশ এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “এর মাঝে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটছে। ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিরও চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, কেউ কিছু করতে পারবে না। হয়তো সাময়িক কিছু একটা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সেটা মোকাবিলা করবে আমাদের জনগণ।”

খাদ্যপণ্য মজুত না করার আহ্বান

রমজানে দাম বেড়ে যাবে এমন আশঙ্কায় কাউকে খাদ্যপণ্য মজুত না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকের প্রবণতা থাকে যে, জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে, মজুত করে রাখি। আমি বলব, যখন যেটুকু দরকার সেটুকু কিনুন।” 

বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “কিছু আছে মজুতকারী। আর বিরোধী দল তো আছেই- সব সময় ঝামেলা পাকানোর একটা চেষ্টা। মিথ্যাচার নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। মানুষের যেন কষ্ট না হয় রমজান মাসে, তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা করছি।”

দেশে ২০ লাখ টন খাদ্য মজুত আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশে চাউলের কোনো অভাব নেই।”

রাজনৈতিক অভিলাষ নিয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা কাজ করে না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গত ৭ মার্চ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। 

এই প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ফুল দিতে গেছে পরিবারের পক্ষ থেকে। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যায়নি। শেখ রেহানা আমার ছোট বোন। আমাদের পাঁচ ছেলেমেয়ে। তারা কিন্তু আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আজ স্টার্টআপ প্রোগ্রাম, ইয়াং বাংলা, সিআরআইর মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ যত রকমের কাজ আছে তারা করে যাচ্ছে দেশের স্বার্থে।”

তিনি বলেন, “আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা উপভোগ করছি। সেখানে তাদের সবারই কিন্তু কিছু না কিছু অবদান আছে। তারা কিন্তু দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু ওই রকম কোনো রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাজ করে নাই। এখন পর্যন্ত তাদের দলেরও সদস্য করা হয় নাই। তারা দলের কাজের মধ্যেও আসে না। তারা রাজনৈতিক অভিলাষ নিয়ে কাজ করে না। জনগণের স্বার্থে করে, দেশের স্বার্থে করে।”


আরও পড়ুন- প্রধানমন্ত্রী: পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে পেরেছি, এইটুকু দাবি করতে পারি


৪০ বিদেশির বিবৃতি বিজ্ঞাপন  

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে ৪০ জন বিদেশি ব্যক্তির চিঠিকে বিজ্ঞাপন বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

শান্তিতে নোবেলজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা বিবৃতি না, এটা একটা বিজ্ঞাপন। যে ৪০ জনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে একজন বিশেষ ব্যক্তির পক্ষে-এর উত্তর কী দেবো, জানি না। আমার একটা প্রশ্ন আছে, যিনি এত নামিদামি নোবেল প্রাইজপ্রাপ্ত, তার জন্য এই ৪০ জনের নাম খয়রাত করে এনে বিজ্ঞাপন দিতে হবে কেন? তাও আবার বিদেশি পত্রিকায়।”

শেখ হাসিনা বলেন, “যে যাই হোক। দেশে কতগুলো আইন আছে। সে আইন অনুযায়ী সব চলবে এবং সেটা চলে। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন। শ্রমিকদের অধিকার আমরা রক্ষা করি, ট্যাক্স বিভাগ আছে আলাদা। তারা সেটি আদায় করে। কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নেয়, শ্রম আদালত আছে। এই ক্ষেত্রে আমার তো কিছু করার নেই সরকারপ্রধান হিসেবে। আমাকে কেন বলা হলো- এর বাইরে কী বলবো। পদ্মা সেতু কিন্তু করে ফেলেছি, এটুকুই সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলাম।”

নির্বাচন কমিশনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে

নির্বাচন কমিশনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। 

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে ভোট চুরির সুযোগ নেই। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে উন্নয়ন হয় তা প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগ।” 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে; এটা তো আমাদেরই স্লোগান। জনগণের ভোট যাকে খুশি তাকে দেবে। আমাদের যে আন্দোলন আগাগোড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য করেছি। জনগণের ভাতের অধিকার এবং ভোটের অধিকারের আন্দোলনও কিন্তু আমাদের করা। সেটা কিন্তু আমরা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।”

About

Popular Links