Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিদেশ থেকে পাঠানো ওষুধের প্যাকেট নিয়ে প্রতিবেদনের প্রতিবাদ ডাক বিভাগের

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ঢাকা ট্রিবিউনের বাংলা সংস্করণ অনলাইনে ‘জার্মানি থেকে পাঠানো হলো দুই কেজি ওষুধ, এলো এক কেজির প্যাকেট’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩, ০৪:৪০ পিএম

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ঢাকা ট্রিবিউনের বাংলা সংস্করণ অনলাইনে “জার্মানি থেকে পাঠানো হলো দুই কেজি ওষুধ, এলো এক কেজির প্যাকেট” শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে ডাক বিভাগ।

ওই প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হয়, জার্মানির আখেন শহর থেকে বাংলাদেশের খুলনায় মুহাম্মদ আবু তৈয়ব নামে এক ব্যক্তির কাছে দুই কেজির ওষুধের একটি প্যাকেট পাঠানো হয়েছে। তবে আবু তৈয়বকে ঢাকা বৈদেশিক ডাক সিইডি/ডিসিএল সেকশন যে প্যাকেটটি হস্তান্তর করে তা ছিল এক কেজি ওজনের।

ভুক্তভোগী আবু তৈয়ব এই বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান ও পোস্ট মাস্টার জেনারেল বরাবর অভিযোগে বলেছিলেন, “তাকে ডেলিভারি দেওয়া প্যাকেটের ভেতরে থাকা বিভিন্ন ওষুধের পাতা থেকে ওষুধ খুলে নেওয়া হয়েছে।”

সম্প্রতি ওই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানান বৈদেশিক ডাক বিভাগের ঢাকার ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল সঞ্চিতা রানী সরকার। 

তিনি বলেন, “প্যাকেটে কম ওষুধ পাওয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৈদেশিক ডাক বিভাগ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবু তৈয়ব ডাক বিভাগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ কল্পনা প্রসূত ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। তদন্তে ডাক বিভাগের কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। এ জাতীয় অভিযোগ দুঃখজনক। এতে ডাক বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।” 

তবে, ডাক বিভাগের ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর অনাস্থা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আবু তৈয়ব। তিনি আবারও বলছেন, “তার বোন জার্মানি থেকে যে ওষুধ পাঠিয়েছেন তার অর্ধেকও পাননি তিনি।”

বৈদেশিক ডাক বিভাগ বলছে, জার্মান ডাক বিভাগ বিভিন্ন সাইজের প্যাকেটে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করে। যার সর্বোচ্চ ওজন সীমা প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে। যা দ্রব্যের প্রকৃত ওজন নির্দেশ করে না। আন্তর্জাতিক লেটার প্যাকেটের ওজন সর্বোচ্চ ২ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। অভিযোগকারী এই অবস্থান থেকে প্যাকেটটির ওজন ২ কেজি ধরে নিয়েছেন বলে মনে করি। ওই প্যাকেটটি ডাক বিভাগে পৌঁছানো ও হস্তান্তর পর্যন্ত কোনো অনিয়ম দেখা যায়নি। এছাড়া ভুক্তভোগী প্যাকেটটি গ্রহণকালেও কোনো আপত্তি জানাননি।

ডাক বিভাগের প্রতিবেদনের বিষয়ে আবু তৈয়ব বলেন, “গত ৪ জানুয়ারি জার্মানি থেকে আমার ছোট বোন ডা. তাসলিমা রাকিব ওষুধ পাঠিয়েছিলেন। পরে বৈদেশিক ডাক ২৩ জানুয়ারি এক চিঠিতে জানায়, আমার ওষুধের প্যাকেট শুল্ক আইনে জব্দ করা হয়েছে। আমাকে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ ৪৫ দিনের মধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। গত ৩১ জানুয়ারি আমি বৈদেশিক ডাক কার্যালয়ের শুল্ক বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের সঙ্গে দেখা করি। সেসময় দুই কেজি ওষুধের প্যাকেটে প্রায় এক কেজি ওষুধ কম পাই।”

তিনি আরও বলেন, “জার্মানির ডাক বিভাগ ওই পার্সেলটি গ্রহণকালে রিসিটে ২ কেজি ওজন লিখেছিল। যা আমার কাছে হস্তান্তর করা প্যাকেটের গায়ে লেখা ছিল না। প্যাকেটে দশ পাতার ক্যাপেসুল ছিল। প্রতিপাতা থেকে অর্ধেক বের করে নেওয়া হয়েছে। এর ছবি সংরক্ষণ করেছি আমি। ডাক বিভাগ যে প্রতিবেদন দিয়েছে তার সঙ্গে একমত হতে পারছি না।”

এর আগে অভিযোগের বিষয়ে ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল সঞ্চিতা রানী সরকার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, “পার্সেলটি অর্ডিনারি ছিল। সেখানে প্যাকেটের গায়ে কোনো ওজন লেখা ছিল না। আমার অফিসে এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের পার্সেল আসে। আমরা তাকে অক্ষত অবস্থায় ওই ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের পার্সেলই হস্তান্তর করেছি। তারপরেও এ অভিযোগটি পাওয়ার পরই একজন পরিদর্শককে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা সহজ হবে।”

About

Popular Links