Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উচ্চশিক্ষায় ৪ লাখ আসন খালি, তবুও নতুন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার তোড়জোর!

ইউজিসি জানিয়েছে, গত বছর প্রায় ৯ লাখ শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিলেন। একই বছর শুধু বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজারের বেশি আসন খালি ছিল

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৩, ০৫:৩১ পিএম

দেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। মানের প্রশ্ন যদি বাদও দেওয়া যায়, তারপরও শিক্ষার্থীর অনুপাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়কে বারবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষার্থী টানতে হচ্ছে। এর মধ্যেই যুক্ত হয়েছে দেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা বা উপশাখা খোলার তোড়জোর।

শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা অনুমোদন করা হলে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ প্রকট আকার ধারণ করবে। এর ফলে দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও শিক্ষার্থী সংকট তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনায় “অসংগতি” তৈরি হবে।

সম্প্রতি দেশে মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা খোলার তোড়জোর চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অবশ্য এখনো কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা দেশে খোলার বা পরিচালনা করার অনুমতি দেয়নি।

ইউজিসি বলছে, দেশে যতগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে সেগুলোই এখনো তাদের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় চীনের জিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা রয়েছে। এখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শাখা বাংলাদেশে চালুর চেষ্টা চলছে। এছাড়া আট থেকে দশটি অখ্যাত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়েরও শাখা খোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশে যাচ্ছেতাই প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদন পাচ্ছে। যা দেশের ক্ষতি বয়ে আনবে। এর মাধ্যমে গুণগত শিক্ষা প্রদান সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় তারা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা খুলতে আগ্রহী হয়েছেন।

এমন একজন উদ্যোক্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিশ্বের শীর্ষ ২০০টির তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে সুনামহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছেই। এতে দক্ষ জনবল তৈরি না হওয়ার সম্ভবনা থাকে। উচ্চশিক্ষা এভাবে প্রসারিত হবে না।”

অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, “আমরা শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টারের অনুমতি দেওয়ার পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছি। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি এখনো অনুমতি দেয়নি। শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ঠেকাতে মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির কাছে আমরা এই দাবি জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এ দেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা খুলতে খুব একটা বেগ পোহাতে হয় না। যেকোনো একটি ভবনে বা রুমে তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এগুলো চলছে লাভজনক প্রতিষ্ঠঅন হিসেবে। আর এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। এগুলো বন্ধ করা দরকার।”

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আলমগীর জানান, বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শাখা নামে দেশে যে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম চালাচ্ছে সেগুলো আদতে কোনো কাজের নয়। কোচিং ব্যবসার মতো করে এগুলো চলছে। ইউজিসি কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়কে শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার খুলে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়নি।

দেশে বেশ কয়েকটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিভিন্ন নামে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উচ্চশিক্ষার উন্নয়নের নামে প্রতারণা, সনদ বিক্রি এবং মানব পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০০৭ সালে সরকার ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে দেশে মোট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৫টি এবং তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৮টিতে। একই সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও বাড়ছে। দেশে এখন সবমিলিয়ে ১৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া প্রতি জেলায় অন্তত একটি করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এমন হিড়িক লক্ষ্য করা গেলেও দেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে না। ২০২২ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১০ লাখ ১১ হাজার ৯৮৭ জন শিক্ষার্থী পাশ করেন। 

অন্যদিকে দেশে স্নাতক পাশ, স্নাতক (সম্মান) ও সমমান পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায় আসন রয়েছে ১৪ লাখের মতো। পাশ করা শিক্ষার্থীরা সবাই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ সিট ফাঁকা থেকে যাবে।

ইউজিসি জানিয়েছে, গত বছর প্রায় ৯ লাখ শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিলেন। একই বছর শুধু বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজারের বেশি আসন খালি ছিল।

About

Popular Links