Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক: ৫৫ ‘ব্ল্যাক স্পটে’ দুর্ঘটনার ঝুঁকি

মহাসড়কের সিলেট-হবিগঞ্জ সেকশনে ৫৫টি ব্ল্যাকস্পটের মধ্যে সিলেট-শেরপুর সড়কে প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৩, ০৮:৫৩ পিএম

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট বিভাগীয় অংশের ৫৫ “ব্ল্যাক স্পটে” দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব জায়গার কারণে মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৮৫টি যেখানে ২০২২ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১২টি।

শুধু দুর্ঘটনা নয়, প্রাণহানিও বেড়েছে। ২০২১ সালে, ১০২ জন এই রাস্তায় প্রাণ হারিয়েছিল ও ২০২২ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৩ জনে। এইভাবে দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ২১ জন।

হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিওনের পুলিশ সুপার মো: শহীদ উল্যাহ জানান, এ মহাসড়কের সিলেট-হবিগঞ্জ অংশে ৫৫টি ব্ল্যাক স্পটের মধ্যে সিলেট-শেরপুর অংশে এরই মধ্যে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেতলী, লালাবাজার ফাঁসির গাছ, রশিদপুর, নাজিরবাজার, ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম-কশেরতল, গোয়ালাবাজার-গয়নাঘাট, ১৯ মাইল থেকে বুরুঙ্গা রাস্তার মুখ, নিরাইয়ার ব্রিজ, কাগজপুর, বেগমপুর বাজার, ফকিরাবাদ, ভাঙ্গা (গজিয়া), সাদিপুর ব্রিজ থেকে টোল প্লাজার মধ্যবর্তী স্থান উল্লেখযোগ্য ব্ল্যাক স্পট।

হাইওয়ে পুলিশ সিলেট অঞ্চল জানিয়েছে, রাস্তার বাঁক, রাস্তার পাশে গাছপালা বা কাঠামোর কারণে দৃষ্টির লাইনে বাধা, বাজারের স্টল, সরু রাস্তা, দুর্ঘটনার সংখ্যা ইত্যাদি বিবেচনা করে হাইওয়ে পুলিশ এই কালো দাগগুলি চিহ্নিত করেছে।

মহাসড়কের সিলেট-হবিগঞ্জ সেকশনে ৫৫টি ব্ল্যাকস্পটের মধ্যে সিলেট-শেরপুর সড়কে প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ।

তিনি আরও বলেন, “সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বেশির ভাগ জায়গায় রোডমার্কিং নেই। কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও এ মহাসড়কের সর্বত্রই রয়েছে স্পিড ব্রেকার। জরিমানা করেও মহাসড়কে অটোরিকশা থামানো যাচ্ছে না। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি চালকরাও বিশ্রাম না নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন।”

“একই সঙ্গে অনেকে অসতর্কতার সঙ্গে রাস্তার একপাশ থেকে অন্যপাশে যাতায়াতের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা।”

ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার এলাকার ব্যবসায়ী সেজুল আহমদ (৩৪) বলেন, “যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।”

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই) সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, “মহাসড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে সড়ক চিহ্নিতকরণ, ফিডার রোড (সাইড রোড) না থাকা এবং রাস্তার উপস্থিতি। রাস্তায় বিপজ্জনক বাঁক সহ অটোরিকশা।”

সোহাগ পরিবহনের সাবেক চালক ও সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, “সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে আলাদা কোনো লেন নেই। শুধু এক পাশ দিয়ে গাড়ি চলাচল করে। এছাড়া এই মহাসড়কটি খুবই সরু। আগের তুলনায় সড়কে যানবাহন কয়েকগুণ বাড়লেও সড়কের প্রস্থ বাড়ানো হয়নি।”

সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি অফিসের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ওভারটেকিং, অতিরিক্ত লোড, দ্রুতগতি ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস প্রধানত দায়ী।”

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান।

শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল চন্দ্র দেব জানান, মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। অনেক সময় পুলিশ সদস্যরাও প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পান না বলেও জানান ওসি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক শহীদুল আজম বলেন, “তাদের জনবল খুবই কম।” পুলিশের সহায়তায় তারা মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করবেন বলে জানান তিনি।

About

Popular Links