Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হোটেলে ৫০% ছাড়েও নেই পর্যটক, কুয়াকাটায় বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলগুলোতে ৫০% ছাড় দেওয়া হয়েছে; তবুও আকর্ষণীয় এই পর্যটন কেন্দ্র প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩, ০১:১০ পিএম

রমজান মাসের রোজা এবং তীব্র দাবদাহের কারণে দেশের পর্যটন এলাকাগুলোতে কমেছে পর্যটক। সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলগুলোতে ৫০% ছাড় দেওয়া হয়েছে; তবুও আকর্ষণীয় এই পর্যটন কেন্দ্র প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

রমজানের আগে কুয়াটায় প্রচণ্ড ভিড় ছিল পর্যটকদের। আবাসিক হোটেলগুলো সেসময় কক্ষ সংকটে পড়েছিল। কমিউনিটি ট্যুরিজমের আওতায় অনেক পর্যটক আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অনেকে খোলা আকাশের নিচে, বাসে, সৈকতের বেঞ্চে রাত্রিযাপন করেছেন। কিন্তু সেই চিত্র এখন পুরোপুরি উল্টো। পর্যটক না থাকায় বেকাদায় পড়েছেন পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত নিম্নআয়ের মানুষরা।

চলতি সপ্তাহে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে তেমন কোনো ভিড় দেখা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অলস সময় অতিবাহিত করছেন। ক্যামেরাম্যানরাও বসে ছিলেন অলসভাবে। পুরো সৈকতে ৪০ থেকে ৫০ জন পর্যটক ছিলেন। 

পর্যটকদের মধ্যে কাওসার আহমেদ ও লিমা আক্তার দম্পতির সঙ্গে কথা বলেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন। কাওসার আহমেদ বলেছেন, “এই প্রথম কুয়াকাটায় এসেছি। কোথাও কোনো ঝামেলা হয়নি। এখানকার পরিবেশ খুব ভালো। সৈকতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ঘুরতে বেশ ভালোই লাগলো। তবে পর্যটক না থাকায় সবকিছু ফাঁকা ফাঁকা মনে হচ্ছে।”    

সৈকতের জিরো পয়েন্ট, লেবুর বন, শুঁটকি পল্লী, লাল কাকড়ার চর, মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধ মন্দির, কাউয়ারচর, গঙ্গামতিসহ সব দর্শনীয় স্থান পর্যটকশূন্য। গুটিকয়েক ফুচকা বিক্রেতা দোকান খুলে বসে আছেন। সৈকতের ভাসমান দোকান, শুঁটকি মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, রাখাইন নারী মার্কেটে পর্যটকদের আনাগোনা নেই। আগের মতো নেই হইচই কোলাহল।

সৈকতের ফটোগ্রাফার বেল্লাল হোসেন বলেন, “রমজানের আগে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকা আয় হতো। এখন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করতে কষ্ট হয়। রমজানের শুরু থেকেই পর্যটকদের সংখ্যা কমে গেছে। এখন বাজার-সদায় কিনতে কষ্ট হয়। ঈদের বাজার কীভাবে করবো জানি না।”

ফুচকাবিক্রেতা নিজাম উদ্দিন বলেন, “রমজানের আগে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা আয় হতো। এখন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। বেচা-কেনা একেবারে কমে গেছে। খুব সমস্যার মধ্যে দিন কাটছে।”

মোটরসাইকেল চালক ইব্রাহিম বলেন, “রমজানের আগে প্রতিদিন ১,০০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় করতাম। বর্তমানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করতে কষ্ট হয়।'

সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, ‘রমজানের আগে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি করতাম। এখন ৫০০ টাকা বিক্রি করতে কষ্ট হয়।”

আবাসিক হোটেল সি-ভিউয়ের ব্যবস্থাপক সোলায়মান ফরাজী বলেন, “আমাদের হোটেলে ৫০% ছাড় চলছে। রমজানের শুরু থেকেই প্রায় সব হোটেল ছাড় দিয়েছে।”

গ্রিন ট্যুরিজমের আবুল হোসেন রাজু বলেন, “প্রতি বছরই রমজান মাসে পর্যটকের সংখ্যা কমে যায়। এখানকার ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকদের বরণ করতে তাদের প্রতিষ্ঠান ঢেলে সাজানোর কাজ করেন।”     

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (কুটুম) সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক হোসাইন আমির বলেন, “প্রতি বছর রমজান মাসে পর্যটক কম থাকেন। ঈদকে সামনে রেখে হোটেল-মোটেলগুলোতে সাজসজ্জার কাজ চলছে।”   

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পুলিশ পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, “বর্তমানে পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম। তারপরও যেসব পর্যটক কুয়াকাটায় আসছেন আমরা তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দিচ্ছি।”

About

Popular Links