Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাভারের সড়কে ইজারা ছাড়াই টোলের নামে ‘চাঁদাবাজি’

সাভারের ইউএনও বলেন, এটা জানা নেই, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। আপনি থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাতে পারেন। আমাদের টহল পুলিশ যদি হাতেনাতে ধরতে পারে আমরা ব্যবস্থা নেবো

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:৫১ পিএম

ঢাকার সাভারে ইজারা ছাড়াই বিরুলিয়া-আক্রাইন সড়কে টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার নির্দেশ অনুযায়ী, “এসব সড়কে টোল আদায় অবৈধ।”

সরেজমিনে জানা গেছে, প্রায় চার কিলোমিটার সড়কটিতে অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ অটোরিকশা চলাচল করে। এসব একেকটি রিকশা থেকে দিন প্রতি ১০ টাকা করে “চাঁদা” তোলা হয়। টাকা তোলার জন্য দুই স্টপেজে ৪ জন কর্মী কাজ করেন। তারা টাকা নিয়ে অটোরিকশা “চিহ্নিত” করে দেন। এছাড়া সড়কের ওপরে থাকা হালিম, চটপটি ও চায়ের দোকান থেকেও দিনপ্রতি নেওয়া হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে।

শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে এভাবেই অটোরিকশা থেকে “চাঁদা” তুলছিলেন স্থানীয় ইমান্দিপুরের বাসিন্দা দুই যুবক সোহেল ও সাকিন।

টাকা তোলার কারণ জানতে চাইলে তারা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ছাত্রলীগের সাভার পৌরসভা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল মণ্ডল ও সোহেল রাজ রানার নির্দেশে তারা “চাঁদা” তুলছেন।

অভিযোগ আছে, সড়কে চলন্ত ট্রাক, মিনি ট্রাক থেকেও একইভাবে অর্থ আদায় করা হয়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এমন একটি চলন্ত ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায়কালে সেখানে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে চাঁদা উত্তোলনকারীরা স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়েন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তারা চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করেন।

অটোরিকশার একাধিক চালক “চাঁদা” দেওয়ার কথা জানান। তবে তারা কী কারণে চাঁদা দিচ্ছেন তা জানেন না। এমনকি চাঁদা দিয়ে কোনো রসিদও পাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটোরিকশা চালক বলেন, “আগে তো চাঁদা নিত না। এখন নিতেছে। টাকা না দিলে সমস্যা করবো। তাই দিতাছি।”

আরেক চা দোকানদার বলেন, “সোহেল রানা ও রুবেল মণ্ডলের লোকেরা চাঁদা তুলছে। না দিলে ঝামেলা করে। তাই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছি।”

সড়ক-মহাসড়কে চাঁদা আদায় নিষিদ্ধ

এদিকে সড়কটিতে এ টোল আদায় অবৈধ বলে জানা গেছে। গত ৩০ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের সই করা এক নির্দেশে বলা হয়, টার্মিনাল ছাড়া অন্য সকল সড়ক মহাসড়কে চাঁদা/টোল আদায় অবৈধ। এটি বন্ধে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার মেয়রকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া গত ৩১ জানুয়ারি সাভার পৌরসভার যে ইজারা তালিকা দেওয়া হয়েছে সেখানেও সড়ক/মহাসড়কে চাঁদা/টোল আদায় করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাভার পৌরসভার মেয়রের আরেক নির্দেশনায় বলা হয়, “পৌরসভা থেকে সড়ক, মহাসড়কে কোনো ইজারা দেওয়া হয় না ও চাঁদা আদায় করা হয় না।”

যা বলছেন অভিযুক্তরা

চাঁদা তোলার নির্দেশদাতা সোহেল রাজ রানা বলেন, “রাজাসনের টেন্ডার আমার নামে না, রুবেল মণ্ডল আছে, সে নিয়েছে।”

“চাঁদা” তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “তুলেন বলতে কেমন শোনা যায়, আমি তো ওইটার ভেতর কিছু না। আমার সাথে তো কোনো লেয়াজু নাই ওইটার, রুবেল মণ্ডল ওই টেন্ডার নিয়েছে। আমি যতটুকু জানি এটা রুবেল মণ্ডল নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমাকে অনেকেই ফোন করতেছে। ভাই আপনি ওইটা করছেন এইটা করছেন। থানা থেকে ফোন আসতেছে। আমি পেরেশানিতে আছি এটা নিয়ে।”

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাভার পৌরসভা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল মণ্ডল বলেন, “এটাইজারাদার নিয়েছে সুলতান ভাই। আমার দায়িত্ব হচ্ছে দেখাশোনা করা।”

তিনি বলেন, “অটোরিকশা থেকে টাকা নিই না। আমরা শুধু গাড়িগুলো থেকে টোল ওঠাই। গাড়ি অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়, পিকাপ থেকে ২০ টাকা; কোনো গাড়ি থেকে ৫০ টাকা। টাকা তোলার জন্য ৫ থেকে ৭ জন কাজ করে।”

সড়ক মহাসড়কে চাঁদা/টোল তোলা বৈধ কি-না প্রশ্নে তিনি বলেন, “মহাসড়ক থেকে চাঁদা তোলা যাবে না এই বিষয় সুলতান ভাই বলতে পারবেন। আর এটা তো জেলা থেকে নেওয়া হয়নি; নেওয়া হয়েছে পৌরসভা থেকে। নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে কিছুটা জানি। আর এটা তো নিষেধাজ্ঞা না। আর নির্দেশনা আমি অবশ্যই দেখেছি। আপনার সাথে আমি সামনা সামনি কথা বললে ভালো হতো।”

দায়িত্বপ্রাপ্তদের বক্তব্য

সাভার পৌর মেয়র হাজী আব্দুল গনি বলেন, “যদি চাঁদা নেয় তাহলে পুলিশকে অবহিত করেন। আমাদের চিঠিতে পরিষ্কার লেখা আছে কোনো লেনে বা কোনো সড়কে চাঁদা তোলা নিষেধ।”

সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “এটা জানা নেই, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। আপনি থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাতে পারেন। আমাদের টহল পুলিশ থাকে তারা যদি হাতেনাতে ধরতে পারে আমরা ব্যবস্থা নেবো।”

About

Popular Links