Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাজীপুরের প্রধান দুই মহাসড়কে ধীরে ধীরে বাড়ছে যানবাহনের চাপ

ঈদে ঘরমুখী মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে ঢাক-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। তবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এখন পর্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৫২ পিএম

ঈদে ঘরমুখী মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে ঢাক-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। তবে, ট্রাফিক পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এখন পর্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে এই দুই মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজগুলোতে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। পুলিশের সঙ্গে যানজট নিরসনে কাজ করছে রোভার স্কাউট ।

মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস মোড়, বোর্ড বাজার ও স্টেশন রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যাত্রীর তুলনায় যানবাহন কম থাকায় অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষ ও যানবাহনের চাপ বাড়ছে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সালনা, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, ভবনীপুর, বাঘের বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী, নয়নপুর, এমসি বাজার এবং জৈনা বাজার এলাকায় ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। সকাল থেকেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা তিন সড়কের মোড় এলাকায় যানবাহনের চাপ ছিল। 

চন্দ্রা থেকে কালিয়াকৈর অংশে যানবাহনের তেমন চাপ না থাকলেও কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কে সকাল থেকেই যানবাহনের সারি দেখা গেছে। ওই সড়কে থেমে থেমে যান চলছে। হাইওয়ে পুলিশ বলছে, চন্দ্রা তিন সড়কের মোড়ে যাত্রীবাহী বাসগুলোতে ইচ্ছে মতো থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে পেছনের গাড়িগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না।

কোনাবাড়ি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, “সকালে যানবাহনের চাপ কিছুটা ছিল, যা স্বাভাবিক সময়ের মতোই। শিল্পকারখানা ছুটি হলে যানবাহনের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।”

গাজীপুরের বোর্ড বাজার (তারগাছ) এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় ঢাকা ট্রিবিউনের। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন চান্দনা চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ডে। বলেন, “বাসা থেকে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বাড়ির উদ্দেশে সকালে বের হয়েছি। এ পর্যন্ত আসতে কয়েকটি স্থানে থেমে থেমে গাড়ি চলেছে।”

আরেক যাত্রী ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সিরাজগঞ্জের সাদেক মিয়া বলেন, “নন্দন পার্ক থেকে যানজট শুরু হয়েছে। তবে কি কারণে সড়কে বাস দাঁড়িয়ে থাকে তা বুঝতে পারছি না। চন্দ্রা মোড়ে বাসগুলো ইচ্ছে মতো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকছে। যাত্রী ওঠাতে সময়ক্ষেপণ করছে। এ কারণে পেছনের বাসগুলো সামনে আগাতে পারছে না।”

কুড়িগ্রামের নূরে আলম স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মহানগরের গাছা এলাকায় বসবাস করেন। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই  স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তিনি বলেন, “সকাল ৯টা থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। ভাড়া বেশি চাওয়ায় ওঠার সাহস পাচ্ছি না।”

গাজীপুরের অধিকাংশ শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষণা না করায় পুরোপুরি ঈদ যাত্রা শুরু হয়নি। পরিবহন চালকরা বলছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়বে। 

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কংকন কুমার বিশ্বাস বলেন, “ঈদ যাত্রায় মানুষের ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভবানীপুর থেকে জৈনাবাজার পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের তিনটি টিম কাজ করছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন মহাসড়কে থেকে সরাতে ভ্রাম্যমাণ টিমসহ সার্বক্ষণিক একটি রেকার প্রস্তুত রয়েছে।”

নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গাজীপুর জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যাত্রীদের যাত্রা সহজ করতে যৌথভাবে কাজ করছে। সকাল থেকে কিছুটা চাপ থাকলেও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা।”

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় পর্যন্ত থেমে থেমে যানবাহন চলার বিষয়ে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। তাছাড়া মহাসড়কে গাড়ি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়লে তা সরিয়ে নিতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) নাজমুস সাকিব ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, “তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে গাজীপুর জেলার ট্রাফিক বিভাগকে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জয়দেবপুর থানা ও শ্রীপুর থানা এরিয়া, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা-কালিয়াকৈর এরিয়া এবং কালিগঞ্জ-কাপাসিয়া থানা এরিয়া।”

তিনি বলেন, “চন্দ্রা এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দুই শিফটে ২৪০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। চালক-যাত্রীদের ট্রাফিক বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের তৎপরতা রোধেও কাজ করছে পুলিশ।”

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানবাহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৩০০ ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন সদস্য ও রোভার স্কাউট মোতায়েন রয়েছে। ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About

Popular Links