Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৫৭% প্রতিবন্ধী উপহাসের শিকার, সবচেয়ে বেশি প্রতিবেশীর কাছে

দেশের প্রতিবন্ধী জনসংখ্যার ৫৬.৪১% উপহাস ও বিদ্রুপের শিকার হন। তাদের মধ্যে ৯০.৫৬% উপহাসের শিকার হন প্রতিবেশীর কাছে; আত্মীয়-স্বজনের কাছে ৪০.৫৩%, বন্ধু-বান্ধবের কাছে ২৬.৯৯% এবং নিজের পরিবারের কাছে ২৩.৪৬%

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৩, ০১:২০ পিএম

দেশের প্রতিবন্ধী জনসংখ্যার ৫৬.৪১% উপহাস ও বিদ্রুপের শিকার হন। তাদের মধ্যে ৯০.৫৬% উপহাসের শিকার হন প্রতিবেশীর কাছে; আত্মীয়-স্বজনের কাছে ৪০.৫৩%, বন্ধু-বান্ধবের কাছে ২৬.৯৯% এবং নিজের পরিবারের সদস্যের কাছে ২৩.৪৬% প্রতিবন্ধী উপহাসের শিকার জন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালে প্রকাশিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর করা এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ৫৬.৪১% বছরের যেকোনো সময় উপহাস বা বিদ্রুপের শিকার হয়েছেন। মাঝে মাঝেই বিদ্রুপের শিকার হয়েছেন ৭৩.৮৭%। প্রায়শই উপহাস বা বিদ্রুপের শিকার হয়েছেন ২০.২২% এবং সর্বদা ৫.৯১% এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, দেশের জনসংখ্যার ২.৮০% ব্যক্তি প্রতিবন্ধিতা এবং ৭.৭% ব্যক্তি ফাংশনাল ডিফিকাল্টি নিয়ে বসবাস করছেন। নারীর তুলনায় পুরুষের মাঝে এবং শহর এলাকার তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় প্রতিবন্ধিতা ও ফাংশনাল ডিফিকাল্টি দুটোই বেশি। 

১৫-৬৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধীদের প্রতি ৩ জনের ১ জন কর্মে নিয়োজিত, যাদের অধিকাংশই আত্ম-কর্মসংস্থান ও পরিবারের কাজে যুক্ত। প্রতি ৩ জন প্রতিবন্ধীর মধ্যে ১ জন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতি ২ জনে ১ জন প্রধানত সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। 

প্রতিবন্ধীদের উপহাস ও বিদ্রুপের শিকার হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ খন্দকার জহুরুল আলম অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘পুরো সমাজ ব্যবস্থাটাই এমন নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে যে, সেখানে আলাদা করে প্রতিবেশী ও পরিবারকে ঢালাও দোষারোপ করা যায় না। তবে বুলিং ইদানিং বেড়েছে। আমরা যত আধুনিক হয়েছি, ততই প্রতিবন্ধকতার শিকার মানুষ সমাজ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তাদের ‘স্বাভাবিক' মানুষ না বলে, স্পেশাল চাইল্ড/স্পেশাল পিপল- এসবও বলে আরও বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাস্তবতা হলো- জাতিসংঘ বলেছে মানুষ, তাদের প্রতিবন্ধকতা আছে। সেটাই যথেষ্ট।”

পরিবার কেন উপহাস করবে প্রশ্নে খন্দকার জহুরুল আলম  বলেন, “যখন সমাজ ও রাষ্ট্র আপনার প্রতিবন্ধকতার শিকার সন্তানকে বড় হতে ভালোভাবে বাঁচতে সহায়তা করছে না, তখন আপনি তার প্রতি বিরূপ হবেন। সেটা যদি সম্ভব হতো তবে কেউ বিরূপ আচরণ করতেন না।”

“অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে” দেশের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের সব সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য ১% কোটা সংরক্ষিত আছে। তাছাড়া সকারের সামাজিক নিরাপত্তাসেবার আওতায় প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। 

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে ২০১৩ সালে একটি আইন করা হয়েছে। “প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩” সকল প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তির অন্য সব নাগরিকের মতো সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু এ নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা বলছেন, আইন থাকলেও বাস্তবে সেটির বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।    

প্রতিবন্ধিতা উন্নয়ন বিষয়ক পরামর্শক নাফিসুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, “প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে নীতিমালার দিক থেকে বাংলাদেশে অনেক উন্নতি হয়েছে, কিন্তু সেটার বাস্তবায়নের জায়গায় অনেক চ্যালেঞ্জ আছে।”

About

Popular Links