Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হাজার পুকুরের ঢাকায় টিকে আছে মাত্র ২৯টি

মৎস্য বিভাগের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে ঢাকায় পুকুর ছিল দুই হাজার। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ২০১৮ সালে রাজধানী ঢাকায় পুকুর ছিল ১০০টি, তা কমে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। গত পাঁচ বছরে ঢাকায় পুকুর কমেছে ৭১টি

আপডেট : ০৪ মে ২০২৩, ০৩:২৩ পিএম

ঢাকায় পানির উৎস দিন দিন কমে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরও অনেক নিচে নেমে গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, শহরে কমপক্ষে ১৫% প্রাকৃতিক জলাধার থাকা দরকার। কিন্তু বাস্তবে তা ৪-৫%-এরও কম। 

মৎস্য বিভাগের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে ঢাকায় পুকুর ছিল দুই হাজার। এবার ফায়ার সার্ভিস জানালো, ২০১৮ সালে রাজধানী ঢাকায় পুকুর ছিল ১০০টি, তা কমে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। গত পাঁচ বছরে ঢাকায় পুকুর কমেছে ৭১টি।

বৃহস্পতিবার (৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত নগর সংলাপে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি বলেন, “ঢাকায় জলাশয় কমে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা জরুরি হয়ে পড়েছে।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “পুকুর, জলাশয় ভরাট হয়ে যাচ্ছে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল উদ্ধারের কাজ শুরু করা হয়েছে। মান্ডা, জিরনিসহ বেশ কয়েকটি খাল উন্নয়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জলাশয় রক্ষা ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করতে ডিএসসিসি কাজ করছে।”

সম্প্রতি ঢাকার বেশ কয়েকটি স্থাপনা ও মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকায় পুকুর ও পানির উৎস না থাকা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।

তখন এক প্রতিবেদনে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানায়, ঢাকা শহরে পুকুরের সংখ্যা ছিল দুই হাজারেরও বেশি। মৎস্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে ঢাকায় পুকুর ছিল দুই হাজার। কিন্তু ঢাকায় এখন পুকুরের সংখ্যা ১০০টির নিচে।

জানা গেছে, যে এক হাজার ৯০০ সরকারি-বেসরকারি পুকুর ও জলাধার ভরাট হয়ে গেছে, তাতে জমির পরিমাণ ৭০ হাজার হেক্টর।

ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯৮৫ থেকে এ পর্যন্ত ঢাকার ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জলাভূমি, খাল ও নিম্নাঞ্চল হারিয়ে গেছে। এটা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সাল নাগাদ ঢাকায় জলাশয় ও নিম্নভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের ১০%-এর নিচে নেমে যাবে।

খালগুলো মৃতপ্রায়

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় খালের সংখ্যা ৪৭। তবে রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা শহরে ৫৬টি খালের অস্তিত্ব থাকলেও তার সবই মৃতপ্রায়। এর মধ্যে দখল হয়ে যাওয়া ২৬টি খাল উদ্ধারের পরিকল্পনা দিয়েছে দুই সিটি কর্পোরেশন। বাকি খালগুলোর অস্তিত্ব তারা এখনো খুঁজে পায়নি। জানা গেছে, খাল দখলদারদের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানও দখল করেছে।

ঢাকা শহরের যে খালগুলোর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো ঢাকার চারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। আর জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা মিলিয়ে মোট ৭৭টি খালের অস্তিত্ব চিহ্নিত করেছে।

গভীর নলকূপেও পানি পাওয়া যাবে না

বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসের খান বলেন, “কেবল পানির উৎসের জন্য নয়, ঢাকা শহরে বৃষ্টির সময় যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় তা থেকে রক্ষার জন্য খাল, পুকুর ও জলাধারগুলো উদ্ধার প্রয়োজন। আর আমরা যদি ভূগর্ভের পানির ওপর নির্ভর করে বসে থাকি তাহলো তো চরম সংকটে পড়ব। কারণ পানির স্তর তো নিচে নেমে যাচ্ছে। এক সময় হয়তো গভীর নলকূপেও পানি পাওয়া যাবে না।”

তার কথা, “আমাদের এখানকার যে শিল্প কারখানার ধরন তাতেও প্রচুর পানি প্রয়োজন। কারণ যেসব কারখানায় বর্জ্য বেশি হয়, দূষণ বেশি হয় সেগুলোই আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক কেজি জিনস উৎপাদন করতে ২২০ কেজি পানি লাগে।”

তিনি বলেন, “আমাদের দুই সিটিতে যে ৪৭টি খালের হিসাব সরকারই দিচ্ছে, সেই খালগুলো আগে উদ্ধার করা হোক। আর সরকারি অনেক পুকুরও ভরাট হয়েছে। পার্কের অনেক পুকুর নাই। সেগুলো উদ্ধার করা হোক।”

About

Popular Links