Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘মোখা’: ভারী বৃষ্টিপাতে পার্বত্য নদী এলাকায় হতে পারে আকস্মিক বন্যা

যমুনা ও পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সময়ে পার্বত্য অববাহিকার মুহরী, হালদা, কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, বাঁকখালি, নাফ নদীসমূহের পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে

আপডেট : ১৩ মে ২০২৩, ০৫:১৮ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে ভারী বা অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য অববাহিকার নদীগুলোর পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে। দেখা যেতে পারে আকস্মিক বন্যা।

শনিবার (১৩ মে) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলো মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যমুনা ও পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সময়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য অববাহিকার মুহরী, হালদা, কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, বাঁকখালি, নাফ নদীসমূহের পানি সমতল বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এ নদী অববাহিকাসমূহের কতিপয় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

“এছাড়া আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার অনেক স্থান আকস্মিক বন্যা ও ভূমি ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর বাইরে, ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে অতিভারী বৃষ্টিপাতজনিত কারণে কক্সবাজার সদর, রামু, টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার অনেক স্থানে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে।”

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, যমুনা ও পদ্মার পানি বাড়লেও ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে এবং তা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এর আগে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের শনিবার সকাল ১০টার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল এই তিন বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সাধারণত, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিকে ভারি এবং ৮৯ মিলিমিটার বা তার চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হলে তাকে অতি ভারি বর্ষণ বলে।

বৃষ্টিপাত ৮৯ মিলিমিটারে উঠলে তার প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

কক্সবাজার উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় “মোখা”। ১৭০ কিলোমিটার গতির ঘূর্ণিঝড়টির কারণে ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে সরিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শনিবার সন্ধ্যার দিকেই কক্সবাজার ও এর কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় এ ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাব পড়তে শুরু করবে। ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে সকাল থেকে কক্সবাজারের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। সাগর ক্রমাগত উত্তাল হচ্ছে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা এগিয়ে আসায় কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে। মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখানো হয়েছে।

About

Popular Links