Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কক্সবাজারে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে উপকূলবাসী, নিচ্ছেন গরু-ছাগলও

পরিবার পরিজনের সঙ্গে সঙ্গে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগিসহ গৃহপালিত পশুপাখিও সঙ্গে নিচ্ছেন অনেকে

আপডেট : ১৩ মে ২০২৩, ০৯:৫১ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় “মোখা”র প্রভাব থেকে জানমাল রক্ষায় কক্সবাজার উপকূল এলাকার লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন। পরিবার পরিজনের সঙ্গে সঙ্গে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগিসহ গৃহপালিত পশুপাখিও সঙ্গে নিচ্ছেন অনেকে।

শনিবার (১৩ মে) দুপুরে পৌরসভার সমিতির পাড়া, পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়া, নাজিরারটেক এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রথম আলো।

বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, উপকূলের অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সঙ্গে বস্তায়, পলিথিন মুড়িয়ে গৃহস্থালি জিনিসপত্র নিচ্ছেন তারা।

এছাড়া মানুষকে নিরাপদে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এলাকায় টাঙানো হয়েছে বিপৎসংকেতের পতাকা।

কক্সবাজার পৌরসভার পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. আবদুল করিম ও তার ভাই আবদুর রহমান টমটমে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঘরের তিনটি ছাগল।

তিনি বলেন, “মা-বাবাসহ তারা সবাই নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন। ঘরের গরু-ছাগল কেন এখানে পড়ে থাকবে। তাঁদের ১০টি ছাগল ও ১টি গরু আছে। সবই আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন।”

সমুদ্র উপকূলের কাছে হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে সমিতি পাড়া, নাজিরারটেক, পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়া।

সমিতি পাড়ার বাসিন্দা গৃহবধূ মোহছেনা বেগম চার সন্তানকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার কাছে তেমন জিনিসপত্র ছিল না।

তিনি বলেন, “সবাই বলাবলি করছেন, এবার বড় ঝড় হবে। তাই নিরাপদে থাকতে সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। আগে জীবন, তারপর জিনিসপত্র।”

পৌরসভার নাজিরার টেকের অবস্থান একেবারে সাগড়পাড়ে। এই এলাকায় মানুষের ঘনবসতি। এখানে রয়েছে শুঁটকিপল্লি।

শনিবার দুপুরে এসব এলাকায় মানুষের ঘর ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়।

নাজিরারটেকের মুশতাকপাড়ার বৃদ্ধা খালেদা আক্তার বলেন, “এখানেই তার ঘরবাড়ি। কক্সবাজার শহরে আত্মীয়স্বজন নেই। তাই সরকারের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। ঘর ছেড়ে যেতে চান না। আবার না গেলেও হবে না। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ভয় এখনো মনে পড়ে।”

নাজিরারটেক পাড়া থেকে ফেরার সময় দেখা যায়, জেলেরা মাছ ধরার নৌকা নিরাপদে কুতুবদিয়া পাড়ায় সরিয়ে রেখেছেন। সেখানে গল্পগুজবে মেতে ছিলেন জেলেরা।

মাছ ধরার নৌকার মালিক মো. হোসেন ও আমজাদ হোসেন বলেন, “আগে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাবেন। ঝড়ের পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা থাকলে এখান থেকে নৌকাও সরিয়ে নেবেন। কারণ, নৌকা ভেসে গেলে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।”

About

Popular Links