Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঘরে ছেটানো ‘তেলাপোকা মারার ওষুধে’ প্রাণ হারালো স্কুলপড়ুয়া দুই ভাই

চিকিৎসকেরা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে দেখেছেন, ওষুধের বিষক্রিয়ায় দুই ভাইয়ের পাকস্থলীসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ আক্রান্ত হয়েছিল

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৩, ১০:০৮ পিএম

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ছেটানো “তেলাপোকা মারার ওষুধে” অসুস্থ হয়ে স্কুলপড়ুয়া দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (৪ জুন) রাতে গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

মৃতরা হলেন- শাহিল মোবারত জায়ান (৯) ও শায়েন মোবারত জাহিন (১৫)। তারা কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরের মোবারক হোসেনের ছেলে। মোবারক হোসেন ঢাকা রয়েল ক্লাব লিমিটেডের (উত্তরা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পরিবার নিয়ে তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার থাকতেন।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রথম আলো।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, তেলাপোকার উৎপাত থেকে বাঁচতে শুক্রবার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাসায় ডেকে আনা হয়। ওই কর্মীরা বাসায় তেলাপোকা মারার ওষুধ ছিটিয়ে তাদের ছয় ঘণ্টা বাসায় ঢুকতে নিষেধ করেন। আর ঢোকার পর পুরো বাসা পরিষ্কার করে বসবাস শুরু করতে বলেন। কিন্তু পরিবারটি তা না করে ছয় ঘণ্টা পর বাইরে থেকে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে। পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ছোট ছেলে শাহিল মোবারত অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর বড় ছেলে শায়েন মোবারতও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

রবিবার ভোরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে শাহিলকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে শায়েনও মারা যায়। এই দম্পতির অপর সন্তান মেয়েটি সুস্থ আছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, শাহিলের মৃত্যুর পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে দেখেছেন, ওষুধের বিষক্রিয়ায় দুই ভাইয়ের পাকস্থলীসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ আক্রান্ত হয়েছিল। শায়েন গতকাল বিকেলের দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মোবারক হোসেনের বন্ধু এস এম সেলিম বলেন, “তেলাপোকা মারার ওষুধের বিষক্রিয়া থেকে দুই ভাই মারা গেছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তেলাপোকা মারার ওষুধ থেকে বিষক্রিয়া হয়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এরপরও তাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।”

About

Popular Links