Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে যেসব কারণে

বুধবার এই মহাসড়কে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৩, ০৯:৩৭ পিএম

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সড়কে চলাচল নিরাপদ করার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চললেও মৃত্যু বন্ধ করা যায়নি। সবশেষ বুধবার (৭ জুন) সিলেটে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এ বছরেই এই সড়কে আরও বেশ কয়েকটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।

২০২২ সালে দেশে সর্বমোট ৭,৬১৭টি যানবাহন দুর্ঘটনায় ১০ হাজার ৮৫৮ জন নিহত হন। একই বছর রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধে ১১ মাসে ১০ থেকে ১৩ হাজার ইউক্রেনীয় সেনার মৃত্যুর খবর জানায় কিয়েভ। এ থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধপরিস্থিতি ছাড়াই কী বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি সিলেটে দুর্ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে গাড়ির ছাদে ভ্রমণ, বাঁক ও রোড সাইন আপডেট না থাকাকে দায়ী করে হাইওয়ে পুলিশ।

সিলেট হাইওয়ে পুলিশের এসপি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “নিষিদ্ধ থাকলেও সিলেটের অনেক স্থানে গাড়ির ছাদে কিংবা ভ্যানে যাত্রী বহন করা হয়। হাইওয়েতে এ ধরনের যাত্রী পরিবহন কোনোভাবে অনুমোদন করা হয় না। ঈদে বা কোনো উৎসবে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে।”

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট থেকে শেরপুর পর্যন্ত  অংশে ১৮টি বাঁক রয়েছে। এ বাঁকও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। দুই বছর আগে রোড সাইন স্থাপন করা হয়েছে। যেগুলো পরে আর আপডেট করা হয়নি। এসব বিষয়কেও দুর্ঘটনা সংঘটনের ক্ষেত্রে দায়ী মনে করেন পুলিশ কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ।

বুধবার সিলেট মহানগর থেকে পিকআপে করে প্রায় ৩০ জন নারী-পুরুষ নির্মাণশ্রমিক জেলার ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার যাচ্ছিলেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজার এলাকার কুতুবপুর নামক স্থানে পৌঁছালে মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে শ্রমিক বহনকারী পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবারের দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যারা এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তারা অধিকাংশই গরিব। তাদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহনে গদাগদি করে বহন করা আইনসঙ্গত নয়। এর দায় তাদের শ্রমিক হিসেবে যারা হায়ার করছিল তাদেরও।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলামও নাগরিকদের অসচেতনাকে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করলেন।

তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “অসচেতনতা সিলেট অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ। গাড়ির ছাদে যাত্রীবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, অতিরিক্ত যাত্রীবহন ও গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাস্তার ব্যবস্থাপনা ও উড়াল সেতু ব্যবহারে অনীহার কারণেও অহরহ সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে।”

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) মো. মাসুদ রানা জানান, বুধবারের দুর্ঘটনার ঘটনায় পিকআপ ভ্যান ও ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া নিষিদ্ধ পরিবহন যেন রাস্তায় নামতে না পারে সেজন্য ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

About

Popular Links