Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু

এর মধ্যে দিরাইয়ে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে একজন এবং বিশ্বম্ভরপুরে পাথর উত্তোলনের সময় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৩, ০৮:৪৬ পিএম

সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দিরাইয়ে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে একজন এবং বিশ্বম্ভরপুরে পাথর উত্তোলনের সময় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন, দিরাইয়ের ইউনিয়নের পশ্চিম দৌলতপুর গ্রামের আব্দুল মালেক এবং বিশ্বম্ভরপুরের সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামের জয়নাল ও সেলিম।

শনিবার (১৭ জুন) পুলিশ সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তাদির আহমদ জানান, শুক্রবার রাতে আব্দুল মালেক উপজেলার জয়পুর গ্রামে ছায়ার হাওরে মাছ শিকারে যান। সারারাত মাছ ধরার পর সকালে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, ডলুরা বর্ডার এলাকার চলতি নদী থেকে পাথর উত্তোলনের সময় বজ্রপাতে জয়নাল ও সেলিম নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

ফিনল্যান্ডভিত্তিক বজ্রপাত বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ভাইসালার তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বজ্রপাতে যারা মারা যান, তাদের ৭০% কৃষক বা যারা খোলা মাঠে কাজ করেন। এছাড়া বাড়ি ফেরার পথে ১৪% এবং গোসল ও মাছ ধরার সময় ১৩% এর বজ্রপাতের ফলে মৃত্যু হয়েছে। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশে গড়ে বজ্রপাতে কমবেশি ২৬৫ জনের মৃত্যু হয়। গত এক যুগে তিন হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। ২০২১ সালে মারা গেছে ৩৬৩ জন, ২০২০ সালে ২৩৬ জন, ২০১৯ সালে ১৬৮ জন, ২০১৮ সালে ৩৫৯ জন, ২০১৭ সালে ৩০১ জন, ২০১৬ সালে ২০৫ জন এবং ২০১৫ সালে ১৬০ মারা গেছেন। প্রতি বছর মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ে করা এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৮৪ লাখ বজ্রপাত হয় যার ৭০% হয় এপ্রিল থেকে জুন মাসে।

আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশে উত্তর, উত্তর পূর্ব এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চল সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের গবেষণা সেলের প্রধান আবদুল আলীম জানান, বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ দুইটি। বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে গাছ বিশেষ করে মাঠের উঁচু গাছ কেটে ফেলা।

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে তিনি পরামর্শ দেন, “আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে বা ঝড়  বৃষ্টি শুরুর সংকেত পাওয়া গেলে মানুষকে এমন কোনো স্থাপনায় আশ্রয় নিতে হবে যা বিদ্যুৎ কুপরিবাহী। কোনোভাবেই গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া যাবে না। কারণ গাছ বিদ্যুৎ পরিবাহী। গাছের নিচে আশ্রয় নিলে গাছের বিদ্যুৎ মানুষকে আক্রান্ত করবে।”

About

Popular Links