Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঘটকালি করতে গিয়ে মেয়ের মাকে ধর্ষণ, লাথিতে ঘটকের মৃত্যু

রাতের আঁধারে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করতে গেলে ওই নারী ক্ষিপ্ত হয়ে লোকমানের সংবেদনশীল অঙ্গে লাথি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, সেখানেই তার মৃত্যু হয়

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৩, ১১:১৩ পিএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় লোকমান হোসেন (৫০) নামে এক ঘটকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আফরোজা বেগম (৩৪) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৬ জুন) পিবিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া এলাকা থেকে ওই নারীকে আটক করে পিবিআই। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী হত্যার দায় স্বীকার করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত লোকমান হোসেন সাটুরিয়া উপজেলা সীমান্তবর্তী টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নের আউটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি ঘটকালি করতেন। আফরোজা বেগম সাটুরিয়া উপজেলার পাকুটিয়া গ্রামের মৃত আলমাস হোসেনের স্ত্রী।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ঘটকালির সূত্রে তিন মাস আগে ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয়। নারীর মেয়ের বিয়ে নিয়ে ঘটকালি করতে চাওয়ায় প্রায় মোবাইল ফোনে তাদের কথা হতো। এভাবে গড়ে ওঠে সম্পর্ক।

বুধবার (১৪ জুন) রাত ৯টার দিকে লোকমান কল করে ওই নারীকে বাড়ির পেছনের পুকুর পাড়ে আসতে বলেন। সেখানে গেলে তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে লোকমানের সংবেদনশীল অঙ্গে লাথি মারলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আফরোজা বেগম বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের সুযোগ নিয়ে সে আমার সঙ্গে তিন মাস মোবাইলে কথা বলেছে। কথা বলতে বলতে সে আমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। ওই দিন রাতে সে আমাকে পুকুরপাড়ে ডেকে নিয়ে মেয়ের বিয়ের কথা বলে আমাকে ধর্ষণ করেছে। এ কারণে আমি তাকে একটি লাথি মেরেছিলাম। লাথিটি অণ্ডকোষে লাগছে আমি বুঝতে পারিনি। যখন দেখলাম সে আস্তে আস্তে নিথর হচ্ছে তখন তাকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ফেলে আমি বাড়ি চলে আসি। তবে লোকমান হোসেন ঘটকবেশে অনেক নারীর ইজ্জত নষ্ট করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সাটুরিয়া থানা-পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় একই নিহতের ছেলে আবদুল হাকিম বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় মামলা করেন। এরপর মানিকগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এসআই সামরুল হোসেনকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এসআই সামরুল হোসেন ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে একই দিন রাতে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেন। পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে আফরোজা হত্যার দায় স্বীকার করলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সাটুরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) ইমাম আল মেহেদী জানান, নিহত লোকমানের ছেলে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে আর কেউ জড়িত থাকার সন্ধান পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে।

About

Popular Links