Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্রিকসে যোগদানের আমন্ত্রণ পেলে স্বাগত জানাবে ঢাকা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা (ব্রিকস) আমাদের আমন্ত্রণ জানালে আমরা অবশ্যই যোগ দেব। আমরা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৩, ০৭:১১ পিএম

ব্রিকসে (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা- পাঁচটি সদস্য রাষ্ট্রের গ্রুপ)  যোগ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেছেন, “তারা আমাদের আমন্ত্রণ জানালে আমরা অবশ্যই যোগ দেব। আমরা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি (আমাদের যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়ে)।”

সোমবার (১৯ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এই কথা জানান তিনি।

এর আগে জেনেভায় মোমেন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশ চলতি বছরের আগস্টে ব্রিকসের সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২২-২৪ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ব্রিকস নেতারা যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জোহানেসবার্গের গৌতেং-এর স্যান্ডটন কনভেনশন সেন্টারে (এসসিসি) শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকা ও গ্লোবাল সাউথের  নেতাদের কাছে তার প্রচার অব্যাহত রাখবে এবং ১৫তম ব্রিকস সম্মেলনের সময় একটি ব্রিকস আউটরিচ এবং ব্রিকস প্লাস সংলাপ করবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নালেদি পান্ডোরের আমন্ত্রণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন সম্প্রতি ফ্রেন্ডস অব ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন। সেসময় তিনি বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট দেশগুলোকে আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে আরও সহযোগিতা করতে প্ররোচিত করছে।”

‘লবিস্ট বাদ দেওয়া হয়েছে'

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লবিস্ট নেই। আমরা বাদ দিয়ে দিয়েছি। যারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে, তাদের বলেন আল্লাহর ওয়াস্তে দেশটাকে ধ্বংস করার তালে থাকবেন না।”

বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে মোমেন বলেন, “আপনারা বরং দেশে আরও এনার্জি পাওয়া যায় কীভাবে, দেশে লোকের কর্মসংস্থান হয় কীভাবে, বিনিয়োগ বাড়ে কীভাবে; সেজন্য লবিস্ট নিয়োগ করেন। তাহলে দেশের মঙ্গল হবে। দেশ তো আপনার-আমার সবার। যারা অপজিশনে আছেন তাদেরও দেশটা। সুতরাং দেশকে ধ্বংস করে লাভ নেই। কারণ এটাতে সবার ক্ষতি।”

‘ছয় কংগ্রেসম্যানের চিঠিতে তথ্যে গড়মিল আছে'

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনকে দেশটির ছয় কংগ্রেসম্যানের দেওয়া চিঠি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “চিঠিতে কিছু তথ্যের গরমিল আছে, ভুল আছে। মিথ্যা তথ্য আছে। তারা বলছে, গত কয়েক বছরে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ৬০% হিন্দু বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে। এটা তো সত্যি নয়। বলা হচ্ছে, খ্রিষ্টানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, এটাও-তো সত্যি নয়। চিঠিটা মনে হয়েছে, অপরিপক্ব হাতে লেখা। এটা নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই।”

চিঠির ভুলগুলো দেশের গণমাধ্যমকে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে মোমেন বলেন, “সুশীল সমাজসহ গণমাধ্যমের বলা উচিত এ রকম ভুল তথ্য নিয়ে কীভাবে চিঠি লিখে।”

চিঠি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমার বলার দরকার নেই। তারা চিঠি চালাচালি কোথায় করছে, এটা তাদের মাথাব্যথা; এটা আমাদের নয়।”

নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের তৎপরতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যত ধরনের প্রচেষ্টা দরকার সেগুলো চালিয়ে যাচ্ছি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশন চাইলে হবে না। আশা করব, যত দল আছে তারা সবাই প্রতিজ্ঞা করবে তারাও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নেবে। তাহলেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।”

‘মোদি-বাইডেন বৈঠকে বাংলাদেশরে ওকালতি করার দরকার নেই'

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকে কোন কোন বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পাবে, তা নিয়ে বাংলাদেশের ওকালতি করার দরকার নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ভারত অত্যন্ত পরিপক্ব গণতান্ত্রিক একটি দেশ। ভারতের নেতৃত্বও অত্যন্ত পরিপক্ব ও সমৃদ্ধ। বৈঠকে যা ভালো মনে করবেন, তা নিয়েই তারা (মোদি-বাইডেন) আলাপ করবেন। ওখানে আমার (বাংলাদেশের) ওকালতি করার প্রয়োজন নেই।”

ওয়াশিংটনে আগামী ২২ জুন অনুষ্ঠেয় মোদী-বাইডেন বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তুতে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গটি থাকছে কি না- জানতে চাইলে সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন ড. মোমেন। 

তিনি বলেন, “ওইসব দেশের বৈঠকে কে কী নিয়ে আলাপ করবে তা নিয়ে এত দুশ্চিন্তা কেন?”

About

Popular Links