Saturday, June 15, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এবার ডা. সংযুক্তাকে আইনি নোটিশ পাঠালো সেন্ট্রাল হাসপাতাল

সংবাদ সম্মেলনে সংযুক্তা দাবি করেন, তিনি সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন করায় তাকে অভিযুক্ত করে মিডিয়া ট্রায়াল করা হচ্ছে। তিনি ওই সময় দেশে ছিলেন না। এর পুরো দায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

আপডেট : ২২ জুন ২০২৩, ০১:১৫ পিএম

ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাফিলতিতে নবজাতকসহ মাহবুবা রহমান আঁখি নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। কাঠামোগত এই “হত্যাকাণ্ডের” দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করলেও কৌশলে এর জন্য অনেকটা দায়ি করা হয় প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সংযুক্তা সাহাকে।

এরপরই এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও সংযুক্তা সাহার মধ্যে পরস্পরকে দোষারোপের বক্তব্য চলতে থাকে। সবশেষ সংযুক্তা সংবাদ সম্মেলন করে জানান, তিনি সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন করায় তাকে অভিযুক্ত করে মিডিয়া ট্রায়াল করা হচ্ছে। তিনি ওই সময় দেশে ছিলেন না। এর পুরো দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

সংযুক্তার এমন বক্তব্যের পরে তাকে এবার আইনি নোটিশ পাঠালো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দেওয়া আইনি নোটিশে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংযুক্তা সময় পাবেন এক সপ্তাহ।

বুধবার (২১ জুন) ডা. সংযুক্তা সাহাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।

নোটিশে বলা হয়েছে, “সংবাদ সম্মেলনে সেন্ট্রাল হাসপাতালে মাহবুবা রহমান আঁখি ও তার নবজাতকের চিকিৎসা নিয়ে বেশ কিছু মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন ডা. সংযুক্ত সাহা। আঁখি তার রোগী নন এবং হাসপাতাল তার সম্পর্কে মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছে উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে হাসপাতাল তার কাছ থেকে কোনও সম্মতি নেয়নি এবং প্রশ্ন তোলেন যে অপারেশনের সময় তিনি উপস্থিত না থাকলে কীভাবে এই ঘটনার জন্য তাকে দায়ী করা যেতে পারে। এসব বক্তব্য শুধু ভিত্তিহীনই নয়, হাসপাতালের সুনামও ক্ষুণ্ন করছে।”

নোটিশে আরও বলা হয়, “হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই ডা. সংযুক্তা সাহা তার বাসভবনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছেন এবং এমনভাবে কাজ করেছেন, যা হাসপাতালের ব্র্যান্ড ও সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে প্রসব ব্যথা ওঠায় মাহবুবা রহমান আঁখিকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তার অধীনে ভর্তি করানো হয়। গত ১৪ জুন সেন্ট্রাল হাসপাতালে “ভুল চিকিৎসা' ও কর্তৃপক্ষের প্রতারণা”র অভিযোগ তোলেন তার স্বামী ইয়াকুব আলী। তিনি দাবি করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মারা গেছে তাদের নবজাতক সন্তানও।

জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাহবুবা রহমান আঁখি। এ সময় তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল বলেও চিকিৎসক জানিয়েছিলেন। নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমেই সন্তান প্রসব সম্ভব বলে আশ্বস্তও করেছিলেন ডা. সংযুক্তা সাহা।

প্রসব ব্যথা ওঠায় গত ৯ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তার অধীনে মাহবুবাকে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ওইসময় ডা. সংযুক্তা সাহা দেশেই ছিলেন না, অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সংযুক্তা সাহা আছেন এবং ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) কাজ করছেন। অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তখন অস্ত্রোপচার করে বাচ্চা বের করা হয়। পরদিন মারা যায় শিশুটি। এতে আঁখির অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার পর তাকে পার্শ্ববর্তী ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার দুপুরে সেখানে মারা যান তিনি। 

ওই ঘটনায় গত বুধবার ধানমন্ডি থানায় মোট ছয় জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে “অবহেলাজনিত মৃত্যুর” অভিযোগ এনে একটি মামলা করা হয়। সেখানে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা ও ডা. মুনা সাহাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা হলেন ডা. মিলি, ডা. এহসান, অধ্যাপক সংযুক্তা সাহার সহকারী জমির এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপক পারভেজ।

মামলাটিতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই চিকিৎসক ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা ও ডা. মুনা সাহা এরই মধ্যে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গতকাল ২১ জুন এই দুই চিকিৎসকের জামিন শুনানি ছিল। আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেননি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূরের আদালত এ আদেশ দেন।

এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের একটি দল ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনে আইসিইউতে রোগীর রাখার উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়া যায়নি। এ জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষ বন্ধ করে দেওয়াসহ কয়েক দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

About

Popular Links