Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঢাকার ৯০% ছোট পুকুর দখলের শিকার, নেমেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও

ঢাকার জলাধার ও সবুজভূমি কমে যাওয়ার পেছনে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জলাশয় ভরাট ও সবুজ এলাকা নিধন, জলাশয় সংরক্ষণ আইন না জানা, আইনি জটিলতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি, রাজউকের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩, ১০:১৬ এএম

বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুকুর, বিল ও লেক আছে ৩২৭টি। এরমধ্যে পুকুর রয়েছে ২৪১টি আর বিল ও লেক  ৮৬টি। তবে বেশিরভাগ পুকুরই ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে দালানকোঠা। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানি তিন মিটার নিচে নেমে গেছে। এর ফলে প্রায়ই ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে।

রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) তথ্যমতে, নগরীর ৯০% ছোট পুকুর দখল ও ভরাট  হয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোট (বিএনসিএ) এবং গেন্ডারিয়া ডি আই টি প্লট পুকুর রক্ষা আন্দোলন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ। প্রবন্ধে ঢাকার পুকুর, জলাধার, খাল বিলের নানা বিষয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়। 

তিনি বলেন, “আমরা গবেষণা করে দেখেছি, ঢাকায় বর্তমানে মোট ৬৩টি খাল, ১৩টি লেক ও একটি আদি চ্যানেলের অস্তিত্ব রয়েছে। সরকারিভাবে জলাধারের এখনো তালিকা প্রকাশ হয়নি। নিজেদের প্রয়োজনে এসব পুকুর ও জলাধার রক্ষা করতে হবে। আইন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের জলাধার ভরাট নিষিদ্ধ। ব্যক্তি মালিকালাধীন হলেও জলাধার ভরাট করা যে যাবে না, এ ব্যাপারে রাজউক বিজআঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে। রাজউক আরও সক্ষম ও সক্রিয় হলে ঢাকার জলাধার রক্ষা পাবে। প্রতিটি পুকুরের সামনে এখনই সাইনবোর্ড টানিয়ে দিতে হবে।”

ঢাকার জলাধার ও সবুজভূমি কমে যাওয়ার কারণ বিষয়ে তিনি বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জলাশয় ভরাট ও সবুজ এলাকা নিধন, জলাশয় সংরক্ষণ আইন না জানা, আইনি জটিলতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি, রাজউকের সমন্বয়ের অভাবসহ নানা কারণ রয়েছে।”

ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু হোসেন বাবলা বলেন, “ঢাকার যেই পুকুর রয়েছে সেগুলো সংরক্ষণ করা উচিত। আমি কথা দিলাম, আগামী সংসদে পরিবেশের ওপর কথা বলবো। ঢাকাসহ দেশের পুকুর জলাধার সংরক্ষণের বিষয়টি সংসদে তুলবো। যারা দখলদার তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতে হবে।”

বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “ছোটবেলায় পড়েছি পানিই জীবন। এখন ঢাকায় মনে হচ্ছে বিল্ডিংই জীবন। গত ৫০ বছরে এই পরিবর্তন হয়েছে। আমরা পুকুর, জলাধারের পানি কমে যাওয়ার কথা বলছি। অথচ আমাদের ভূগর্ভস্থ পানিও কিন্তু কমে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানি কতটুকু কমে যাচ্ছে সেটার চিত্র সরকার থেকে আমাদের বলা হয় না। ভূগর্ভস্থ পানি তিন মিটার নিচে নেমে গেছে। ফলে আমরা প্রায়ই দেখি এখন ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে।”

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, “ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য বলা হচ্ছে। রাজধানীতে বসবাসের জন্য মানুষ যেখানে কমার কথা সেখানে জলাধার কমেছে আর মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এখানে যদি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো নগরীর ভালো মেয়রকেও আনা হয় তারপক্ষেও ঢাকা নগরীকে এখন বাসযোগ্য করা সম্ভব হবে না। আমাদের এখন দরকার জলাধার দখলমুক্ত করা।” 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক বজলুর রশিদ বলেন, “অগ্নি নির্বাপনের জন্য পুকুর অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নি নির্বাপনের জন্য যেসব এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সেসব এলাকায় যদি পুকুর থাকে তাহলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হয়।”

বিশ্লেষকেরা বলছেন, শহরে কমপক্ষে ১৫% প্রাকৃতিক জলাধার থাকা দরকার। কিন্তু বাস্তবে তা ৪-৫%-এরও কম। মৎস্য বিভাগের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে ঢাকায় পুকুর ছিল দুই হাজার। 

গত ৪ মে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংলাপ অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ২০১৮ সালে রাজধানী ঢাকায় পুকুর ছিল ১০০টি, তা কমে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। গত পাঁচ বছরে ঢাকায় পুকুর কমেছে ৭১টি।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জার্নাল “পিএলওএস সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন”-এ প্রকাশিত এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে গত তিন দশকে শুধু ঢাকা উত্তর সিটিতে জলাশয় কমেছে ৩২% এরও বেশি। 

About

Popular Links