Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যমুনা গর্ভে বাড়িঘর-ফসলি জমি, বগুড়ায় ভাঙন আতঙ্কে ৩২ হাজার মানুষ

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সারিয়াকান্দির ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে লোকজন পাঠানো হয়েছে। তাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩, ১১:০২ এএম

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল স্রোতে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। উপজেলার চার গ্রামের ৩২ হাজার মানুষ ও ১৭টি সামাজিক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙন হুমকিতে রয়েছে।

গত এক মাস ধরে উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের চর ঘাগুয়া নৌঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন চলছে। এতে ইতোমধ্যে ২৩টি বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জুন) এক প্রতিবেদনে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন জানায়, ভাঙন হুমকিতে রয়েছে কাজলা ইউনিয়নের চর ঘাগুয়া, টেংরাকুড়া, উত্তর টেংরাকুড়ি, পাকেরদহ, মোল্লাপাড়া ও গজার পাড়ার অন্তত ৩২ হাজার মানুষ। এসব গ্রামে ১০টি মসজিদ, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।

কাজলা ইউনিয়নের চর ঘাগুয়া গ্রামের মাঠজুড়ে ছিল ভুট্টা, পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল। কয়েকদিনের ভাঙনে যমুনা নদী ফসলগুলো কেড়ে নিয়েছে। নদী ভাঙন এলাকা থেকে ৫০ গজের মধ্যে বাস করছেন বেশ কয়েকটি পরিবার। ভাঙন আতঙ্কে তাদের সারারাত জেগে থাকতে হয়। 

চর ঘাগুয়া গ্রামের তোতা মিয়া (৫৫) জানান, ১৯৮২ সাল থেকে তারা এ গ্রামে পরিবার নিয়ে বাস করছেন। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিবেশীর বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করছেন। এ কাজ করতে গিয়ে খাওয়ার সময়ও পাচ্ছেন না। 

গৃহবধূ আর্জিনা বেগম (৪৫) জানান, “নদী ভাঙনের কারণে বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতদিনের সাজানো ঘরগুলো ভাঙতে খুব কষ্ট হচ্ছে। জমিজমা যা ছিল সব নদীতে বিলীন হয়েছে। এ বসতভিটায় তার ছোটবেলায় বিয়ে হয়েছিল। ভাঙনের কারণে বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।”

কাজলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আনিস মিয়া বলেন, “এখনই নদী ভাঙন ঠেকানো না গেলে ইউনিয়নের চর ঘাগুয়া গ্রামটি নদীতে বিলীন হবে। গ্রামের উত্তর পাশে নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলছে। কাজটি আরও এক কিলোমিটার বর্ধিত করা গেলে গ্রাম রক্ষা পাবে। ভাঙনরোধে আপাতত জিও ব্যাগ ফেলতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, “সারিয়াকান্দির ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে লোকজন পাঠানো হয়েছে। তাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।”

About

Popular Links